পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লালসিং-এর বলি। কি আশচয, এই সঙ্কল্প জানাইবার রাত্রে সদর দয়াল সিংহের এক পত্র পাইলাম। দয়াল সিং সর্দার লেহনা সিংহের পত্র। লেহনা সিং মহারাজ রণজিৎ সিংহের অধীনে পাবত্য প্রদেশের গবণর ছিলেন, এবং অমাতসরে আপনার রাজধানী প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। সদার দয়াল সিং তাঁহার একমাত্র পত্র। তিনি পিতার বিভবের অধিকারী হন এবং যৌবনের প্রারম্ভে ইউরোপ ভ্ৰমণ করিয়া উদার ভাবাপন্ন হন। দেশে ফিরিয়া তিনি ব্রাহামসমাজের সহিত যোগ দেন ও সববিধ দেশহিতকর কাযে উৎসাহী হন। যত দর স্মরণ হয়, ইহার পাবে তাঁহার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয় নাই। ঐ পত্রে তিনি লিখিয়াছেন, লালসিং আমার সঙ্গে যাইতেছে বলিয়া তিনি আনন্দিত, এবং তার ব্যয় নিবাহাৰ্থ তিনি ৫০ টাকা পাঠাইতেছেন। আমি লালসিংকে একটি ঝলি প্ৰস্তুত করিয়া ঐ টাকা তাহার মধ্যে রাখিতে বলিলাম। বলিয়া দিলাম, “এ ৫o হইতে আমার জন্য পাঁচ পয়সাও ব্যয় করিবে না; ঐ সমগ্র টাকা তোমার জন্য ব্যয় করবে। তোমার খরচের প্রত্যেক পয়সার হিসাব রাখিবে। আমার ব্যয়ের জন্য যিনি যাহা দিবেন, তাহাও ঐ ঝলিতে রাখিবো। কাহাকেও আমাদের অভাব জানিতে দিবে না; যিনি যাহা সম্ভবতঃপ্রবত্ত হইয়া দিবেন, ঐ ঝলিতে দিতে বলিবে।” বেগ, নট, বরো নট, রিফিউজ নটী, (অর্থাৎ ভিক্ষা করিবে না, ঋণ করিবে না, দিলে ফিরাইবে না, ) এই তিনটি কথা একখান কাগজে লিখিয়া ঐ ঝলিতে মারিয়া দিলাম; বলিয়া দিলাম, এই ভাবেই কাজ করিবে। মলতান। এই ভাবেই আমরা মলতান হইয়া সিন্ধা দেশের অভিমখে যাত্রা করিলাম। এই মলতান বাস কালের একটি সমরণীয় ঘটনা আছে। আমরা মলতানে গিয়া দেখিলাম যে কয়েকটি বাঙালী পরিবার কমোপলক্ষে সেখানে বাস করিতেছেন। তন্দিভন্ন পাঞ্জাবীদিগের মধ্যে কতকগলি শিক্ষিত লোক একটি ব্রাহামসমাজ করিয়াছেন। ঐ সমাজে শিক্ষিত বাঙালীদিগের কেহ কেহ যোগ দিয়া থাকেন। আমরা সেখানে পৌছিলে বাঙালী ও পাঞ্জাবী সকলে মহা উৎসাহে আমাদিগকে অভ্যর্থনা করিয়া লাইলেন। যত দর স্মরণ হয়, আমি একজন বাঙালী ভদ্রলোকের গহে রহিলাম, লালসিংও তৎসন্নিকটে এক পাঞ্জাবী বন্ধীর গহে রহিলেন। বাঙালী বন্ধটির গাহে আমার আদরের সীমা পরিসীমা রহিল না। তাঁহার পত্নীই যে কেবল ভগিনীর ন্যায় আমার পরিচযায় রত হইলেন তাহা নহে; আহার করিতে গেলেই দেখিতে পাইতাম, অপরাপর বাঙালী বাড়ি হইতেও নানা প্রকার তরকারী ও মিস্টান্ন আসিয়াছে। সকল বাড়ির মেয়েরা কোমর বধিয়া আমার সেবায় লাগিয়া গেলেন। মহোৎসাহে বক্তৃতা, উপাসনা, আলোচনা প্রভৃতি চলিল। এদিকে পাঞ্জাবী ও বাঙালী বন্ধরা লালসিংকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, “তোমাদের খরচপত্র কিরাপে চলছে? যাবার খরচ আছে তো ?” লালসিং আমার আদেশ অনসারে বলিতে লাগিলেন, “আমাদের আর্থিক অবস্থা জানাতে নিষেধ। কেহ কিছ দিতে ইচ্ছা করেন, দিতে পারেন।” পরে যেদিন যাবার দিন আসিল, আমরা সেন্টশন অভিমখে চলিলাম। বন্ধরা দল বধিয়া আমাদের সঙ্গে চলিলেন। পথে আরও মানষি জটিল, একটি মস্ত দল সহ যাইতেছি, এমন সময় পথে হঠাৎ কে আমার পকেটে হাত দিল। আমার প্রথমে মনে হইল, কে যেন আমার পকেট হইতে কি তুলিয়া লইতেছে। “কে পকেটে হাত দিল ?” DDB DBDDB BDBSDD BBD DDB BBDBDB BBB DDD DDD DDBBS S AO