পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখনও আছে, এবং প্রতি রবিবার প্রাতে ব্ৰাহম বালিকা শিক্ষালয়ে তাহার অধিবেশন হইয়া থাকে। ইপিডয়ান মেসেজার সম্পাদনা। ১৮৮৩ সালে আমাকে আর একটি কাজে হসন্তাপািণ করিতে হয়। আমাদের সমাজের ইংরাজী সংবাদপত্র ব্রাহীম পাবলিক ও পিনিয়নের যে ভাবে জন্ম হইয়াছিল, তাহা অগ্ৰেই বলিয়াছি। এই কালের মধ্যে তাহাতে দাইটি পরিবতন ঘটে। প্রথম, ভুবনমোহন দাস মহাশয় ইহার রাজনীতিক ভাগের সম্পাদকতা ত্যাগ করেন; দ্বিতীয়ত, যে দই বন্ধ, ইহার সর্বত্বাধিকারী হইয়া ইহার পরিচালন ভার লাইয়াছিলেন, তাঁহারা সে ভার ত্যাগ করেন। তখন সমাজের উহার সর্বত্বাধিকারী হওয়া আবশ্যক হয়, এবং আমি প্রস্তাব করি যে, কাগজের নাম পরিবতন করিয়া, তাহাকে ধমভাবপ্রধান করিয়া, রাজনীতিকে দ্বিতীয় স্থানে রাখিয়া, একখানি কাগজ বাহির করা হউক। তদনসারে ‘ইন্ডিয়ান মেসেঞ্জার’ নামে কাগজ বাহির করা হয়, এবং আমি তাহার সম্পাদক হই। ব্ৰাহমামিশন প্রেস স্থাপন। ইন্ডিয়ান মেসেঞ্জার প্রথমে অন্যের ছাপাখানাতে ছাপা হইত, তাহাতে অধিক ব্যয় লাগিতা এবং প্রেসের সহিত আমার সব দা ঝগড়াঝাটি হইত। সেজন্য সমাজের সর্বতন্ত্র প্রেস করা আবশ্যক বোধ হইল। কিন্তু সমাজের সভ্যগণ অগ্রে একটি প্রেস করিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিলেন বলিয়া আর প্রেস সংস্থাপন করিতে নারাজ হইলেন। সবগীয় বন্ধ হুবারকানাথ গাঙ্গলী মহাশয় কমিটিতে বার-বার আমার প্রস্তাবে বাধা দিতে লাগিলেন। কিন্তু এই কয় বৎসরে আমার মনের ভাব এইরপ দাঁড়াইয়াছিল যে, যেটি আমি সমাজের জন্য অত্যাবশ্যক মনে করিতাম সেটি আমাকে করিতেই হইত। বন্ধরা যদি বাধা দিতেন তাহা হইলে নিজের শক্তিতে কুলাইলে নিজেই সে কাজ করিতাম, পরে তাঁহাদিগকে বঝাইয়া সে কাজে লাইবার চেন্টা করিতাম। তদনসারে নিজে টাকা কাজ করিয়া ‘ব্রাহমমিশন প্রেস’ নামে একটি মাদ্রাযন্ত্র সন্থাপন করিলাম। ঐ ঋণ পরে প্রেসের টাকা হইতে শোধ করা হইয়াছে। এই প্রেস সােথাপন বিষয়ে আমাকে অতি কঠিন পরিশ্রম করিতে হইয়াছিল। অক্ষরওয়ালার সহিত অক্ষরের বন্দোবস্ত করা, বাজারে গিয়া প্রেস প্রভৃতি ক্ৰয় করা, প্ৰিণ্টার প্রভৃতি নিযক্ত করা, কাজ চালাইবার উপযক্ত লোক প্রভৃতি স্থির করা, প্রতিদিন তাহদের কায পরিদর্শন করা, প্রভৃতি সমাদয় কাজ করিতে হইত। ওদিকে এই মাদ্রাযন্ত্র সমাজের সম্পপত্তি করাইবার জন্য সমাজের কমিটিতে গাঙ্গলীপ্রমািখ বন্ধগণের সহিত তাক-বিতক করিতে হইত। বন্ধরা কেহ কেহ বলিতেন, “নিজে টাকা ধার করিয়া প্রেস করিয়াছেন, নিজের সম্পত্তি করিয়া রাখনে না ? এত ঝগড়া কেন ?” আমার মনের ভাব সেরাপ ছিল না। আমার বিশবাস জন্মিয়াছিল, সমাজের নিজের একটি মাদ্রাযন্ত্র চাই, যাহা হইতে ব্রাহমাধ্যম প্রচারোপযোগী পাসন্তক পাস্তিকাদি প্রকাশিত হইবে। এই জন্যই ইহার নাম ‘ব্রাহমিশন প্রেস’ রাখিয়াছিলাম, এবং সমাজের হস্তে ইহাকে অপণ করিবার জন্য চেন্টা করিতেছিলাম। কমিটির সভ্যগণকে আমার ভাবাপন্ন করিতে না পারিয়া কয়েক বৎসর প্রেসটি নিজের হাতে রাখিতে হয়, এবং চিন্তার ভার গ্রহণ করিতে হয়। অবশেষ ১৮৮৭ সালে সমাজ ইহা গ্ৰহণ করেন। ՏՏԳ