পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, ঐ ধান্যরাশি হইতে মদ প্রস্তুত হইয়া পচা ধান্য পরিত্যন্ত হইয়াছে। দেখিয়া মনে ভাবিলাম, “ও মা ! অন্নাভাবে আমাদের দেশের শত সহস্ৰ দরিদ্র লোক মরিতেছে, আর তাদের মাখের অন্ন আনিয়া এই ব্যবহারে লাগাইতেছে!” যে বাড়িতে আমি থাকি,তাম, সে বাড়ির বাড়িওয়ালা একজন বন্ধ। তিনি, তাঁহার পত্নী, ও তিনটি অবিবাহিতা মেয়ে, এই তাঁহাদের পরিবার। আহারের সময় মেয়েদিগকে সরাপান করিতে দেখি নাই। কিন্তু বন্ধ পিতা প্রতিদিন বৈকালে আহারান্তে ঐ ভোজন পথানেই বসিয়া প্রায় রাত্ৰি বারোটা পৰ্যন্ত পড়িতেন। পড়া চলিয়াছে এবং ঘন ঘন সরোপান চলিয়াছে। এই জন্য তাঁহার হাতের নিকট এক জগা (ক্ষদ্র কলস) ধেনো মদ (এয়েল) রাখা হইত। পড়া শেষ হইতে-হইতে প্রায় কলসটি খালি হইত। শাইতে যাইবার সময় যদি কোনো দিন তাঁহার সঙ্গে কথা কহিতাম, দেখিতাম নেশাতে বন্ধের গলার সম্বর বদলিয়া গিয়াছে। অথচ এই পরিবারের মধ্যে ধমভাব বিলক্ষণ ছিল। প্রতিদিন প্রাতে তাঁহারা সপরিবারে উপাসনা করিতেন এবং রবিবারে নিয়মিত রাপে উপাসনা মন্দিরে যাইতেন। বিশেষভাবে বদ্ধ কতার ধর্মভাব দেখিতাম। তিনি আমাকে রবিবারে। ধমোপদেশ শনিবার জন্য ভালো ভালো উপাসনা মন্দিরে লইয়া যাইতেন। আমি দেশে ফিরিবার সময় তিনি আমাকে একখানি পস্তক উপহার দিয়াছিলেন। সন্টীমারে আসিয়া দেখি, সেখানি একখানি দৈনিক উপাসনা পােস্তক, তাহাতে অনেক সাধজনের উক্তি উদ্ধত আছে। গ্ৰন্থখানির প্রথম পন্ঠায় বন্ধ নিজে একটি প্রার্থনা লিখিয়া দিয়াছেন, তাহার মম। এই, “হে প্ৰভো! যেমন একবার ডামসকসগামী পলের কাছে আপনাকে প্রকাশ করিয়াছিলে, তেমনি সবদেশে না পৌছিতে-পেছিতে এই ধমানরাগী ব্যক্তির কাছে আপনাকে প্রকাশ করিও।” এই সাধ, সদাশয় মানষের ঐ সারাপান! একদিন আহারে বসিয়া বন্ধ গহস্থটিকে বলিলাম, “আচ্ছা আপনারা তো বাইবেলের প্রত্যেক কথা অভ্রান্ত বলিয়া বিশবাস করেন ?” উত্তর। তাই করি বই কি ! আমি । আচ্ছা, আদম বলিয়া একজন মানবের আদি পিতামহ ছিলেন, এবং তাঁহার অবস্থা নিচিপাপ পণ্যাবস্থা ছিল, তাহা কি বিশ্ববাস করেন ? ऐंठखद्ध। झाँ, ऊा दर्शद्ध दझे कि ! আমি। আচ্ছা, সেই নিম্পপাপ পণ্যাবস্থাতে আদম সরাপান করিতেন কি না ? উত্তর। না, তখন তো সারা আবিস্কার হয় নাই। আমি। তবে তো দেখিতেছেন, সরাটা মানষের পতিত অবস্থার পানীয়। এই কথা বলিতেই বদ্ধ আমার উপর রাগিয়া উঠিলেন, কত কি বলিতে লাগিলেন। আমি ও তাঁহার পত্নী ও কন্যাগণ হাসিতে লাগিলাম। লগডনে মদ্যপান বিরোধী আন্দোলন। ফল কথা এই, কোনো ইংরাজের সহিত আলাপ হইলেই আমি সরোপানের বিরদ্ধে ভজাইবার চেন্টা করিতাম। একবার কতিপয় ভদ্র পরিষ ও মহিলার প্রতিষ্ঠিত একটি শ্রমজীবীদের সভাতে গেলাম। সেদিন আলোচ্য বিষয় ছিল, “পানাসক্তির অবৈধতা।” আমি সরাপান বিরোধী বলিয়া আমাকে তাঁহারা নিমন্ত্ৰণ করিয়াছিলেন। জাতীয় পানাসক্তির অনিন্ট ফলের বিষয় বক্তাগণ যখন বৰ্ণনা করিতে লাগিলেন, তখন আমার মন বিস্ময় ও ঘণাতে অভিভূত হইতে RSS