পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই প্রশেন আশচযান্বিত হইয়া তাহারা বলিল, “তা কি করে "হতে পারে ? এ যে আমাদের বই। তাকে উঠে যাবার সময় ফিরে দিতেই হবে।” আমি। মনে কর, যদি না দেয়। তাহারা হাসিয়া কহিল, “সে হতেই পারে না।” বই না দিয়া যে কেহ চলিয়া যাইতে পারে, ইহা যেন তাহদের ধারণাই হয় না। ইংলগেড় অন্যায়ের প্রকাশ্য প্রতিবাদ। অনেক নিম্পন্ন শ্রেণীর লোক কোনো উপাসনা স্থানে যায় না, এই অভাব দরে করিবার জন্য আমি যাইবার কিছদিন পাব হইতে সেখানে একটা কাজ আরম্ভ হইয়াছিল। কোনো-কোনো খন্টীয় সম্প্রদায়ের প্রচারক ও উপদেস্টাগণ রবিবার প্রাতে ও সন্ধ্যাকালে, রাস্তার মোড়ে-মোড়ে ও উদ্যান প্রভৃতির বক্ষেতলে, উপাসনা ও উপদেশ আরম্পভ করিয়াছিলেন। আমি অনেক সময় এই সকল উপাসনা ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকিতাম। দেখিতাম, নিম্পন্ন শ্রেণীর নর-নারী অনেকে দাঁড়াইয়া শনিতেছে। কোনো কোনো সন্থলে দেখিতাম যে, ধমপ্রচারকদের দেখাদেখি রাজনীতির পক্ষীয়গণ এবং ব্রাডলার দলের নাস্তিকগণও তাঁহাদের বক্তব্য প্রকাশ করিতে আসিতেন। সে বড় কৌতুকের ব্যাপার। এক বক্ষতলে একজন খ্যান্টীয় উপদেশটা বাইবেল গ্ৰন্থখানা উন্ধেব ধরিয়া বলিতেছেন, “দেখ, এই গ্রন্থ ঈশবরদত্ত । ইহাতে তোমরা দর্বলতার অবস্থাতে বল, নিরাশায় আশা, শোকে সাঙ্গত্বনা, ও বিপদে আশ্রয় লাভ করিবে।” অপরদিকে কিয়ন্দরে ব্রাডলার একজন শিষ্য হয় তো চীৎকার করিয়া বলিতেছেন, “বাইবেল মানষের গ্রন্থ, ভ্রমপ্রমাদপিণ্য ; ঈশ্ববর বলিয়া যে কেহ কোথাও আছেন, তার প্রমাণ কি ? তোমরা বদ্ধিজীবী জীব, ভাবিয়া চিন্তিয়া দেখিয়া শনিয়া কাজ কর।” আমি যখন ইংলন্ডে ছিলাম, তখন রাজকায্যের ভার ‘টোরী”- দিগের হস্তে ছিল। একজন বক্তা সেই ‘টোরী’ গবৰ্ণমেন্টের কাব্যকলাপের প্রতিবাদ করিতেছেন; তাঁহারা যে অন্যায় করিয়াছেন, তাহার উল্লেখ করিতেছেন। এদিকে দেখি, একজন সামান্য ছাতার বা কামার-যাহার পরিধানে মলিন ছিন্ন বস্ত্র, পদদ্বয় পাদ,কাহীন, অঙ্গালিগলি বড় বড় চাটিম কলার ন্যায়, মখমন্ডল লোহিতবর্ণবাম হস্তের উপর দক্ষিণ হস্তের মন্টির আঘাত করিয়া, ক্ৰোধে রক্তবর্ণ হইয়া বলিতেছেন, “দি টোরীস আর রাসেকলস’ অর্থাৎ ‘টোরী’র বদমায়েস। যাহাকে তাহারা অন্যায় বা অসত্য বা অধম মনে করে, তাহার প্রতি তাহদের এতই ক্ৰোধ ! নিম্পািন শ্রেণীর লোকের অনেক সভাতে উপস্থিত থাকিয়া দেখিতাম, তাহারা যাহাকে অন্যায়। মনে করে, হািদয়মনের সহিত তাহার প্রতিবাদ করিতেছে; এবং যাহাকে সৎ মনে করে, তাহাতে মন প্ৰাণ ঢালিয়া দিতেছে। গড়ের উপরে এই কথা বলি যে, এই হীন শ্রেণীর লোকদের কথা শনিয়া অন্যভব করিতাম, ধমবিশ্ববাস ইহাদের মনে স্বাভাবিক। কোনো দরজীর দোকানে গিয়া যদি কোনো কাপড়-চোপড়ের ফরমাস দিয়া আসিতাম, এক প্রকার নিশ্চয় জানিতাম যে তাহা সময়ে পাইবই পাইব। কথা ভাঙা, কাজ করিতে বসিয়া কাজ না করা, সামান্য প্রবণগুনা করা, এ সকল কাজকে সে দেশের সাধারণ লোক বড় ঘণার চক্ষে দেখে। নৱহিতৈষণা। তৎপরে দেখিতাম, যেমন একদিকে দারিদ্র্য আছে, দনীতি আছে, বিবিধ সামাজিক পাপ আছে, তেমনি আর এক দিকে সে সকল দরে করিবার জন্য শতশত ব্যক্তির হস্ত প্রসারিত আছে। পাশ্চাত্য জগতের অন্য খণ্টেীয় দেশে যাই নাই, RNS