পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি সে দেশে পৌছিবার কিছদিন পাব হইতে সে দেশের প্রজা সাধারণের মধ্যে জ্ঞান বিস্তারের চেন্টা চলিতেছিল। শিক্ষিত ব্যক্তিগণ অশিক্ষিত শ্রমজীবীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়াস পাইতেছিলেন। শ্রমজীবীদের জন্য টয়নবী হল” ও “পী পলস প্যালেন্স”। ইহার একটা ইতিবত্ত আছে। মিস্টার আনোলন্ড টয়নবী নামে অক্সফোর্ড বিশববিদ্যালয়ের একটি যাবকের মনে হইল যে, তাঁহার যখন অবস্থা ভালো, উদরাষের জন্য চিন্তা নাই, তখন তিনি তাঁহার জীবন কোনো ভালো কাযে দিবেন; তিনি নিম্পন্ন শ্রেণীর মধ্যে শিক্ষা বিস্তার করিবার প্ৰয়াসে সর্বীয় জীবন উৎসগ করবেন। এই সৎকালীপ করিয়া তিনি লন্ডন শহরের পবিভাগে আসিয়া একটি বাড়ি ভাড়া করিয়া তাহাতে প্রতিষ্ঠিত হইলেন, কারণ ঐ বিভাগেই অধিকাংশ নিম্পন্ন শ্রেণীর শ্রমজীবী লোকের বাস। টিয়নবী প্রথম প্রথম ঐ শ্রেণীর লোকদিগকে নিজ ভবনে ডাকিয়া আনিয়া তাহদের সঙ্গে পাঠ ও মৌখিক উপাসনাদি দ্বারা কাযারম্ভ করিলেন। ক্ৰমে তাঁহার কায্যের আশ্চৰ্য ফল দেখা গেল, এবং অপর কয়েকজন শিক্ষিত যাবাক আসিয়া তাঁহার সহিত যোগ দিলেন। তাঁহারা নৈশ বিদ্যালয় সম্প্ৰথাপন করিয়া শ্রমজীবী দিগকে রীতিমতো শিক্ষা দান করিতে প্রবত্ত হইলেন। তাঁহাদের দলটান্তের ফল ত্বরায় ফলিল। নৈশ বিদ্যালয় করিয়া শ্রমজীবীদিগকে শিক্ষা দান করিবার জন্য চারিদিকে আয়োজন হইতে লাগিল। নানা পথানে ‘ওয়াকিং মেনস ইনস্টিটিউট” নামে পাঠাগার সকল নিমিত হইতে লাগিল। ক্ৰমে টয়নবীর মন্ত্যু হইল। তখন তাঁহার স্বদেশবাসীগণ তাঁহার প্রতি সম্পন্দ্ৰম প্রদর্শনাথ লন্ডনের ঐ পােব বিভাগে তাঁহার কায ক্ষেত্রের সন্নিধানে 'টয়নবী হল” নামে শিক্ষামন্দির নিমাণ করিলেন। তাহা অদ্যাপিও নিম্পন্ন শ্রেণীর মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ব্যবহত হইতেছে। এতদিভন্ন লন্ডনের ঐ পবিভাগেই দি পীপলস প্যালেস' অর্থাৎ “প্রজাকুলের প্রাসাদ” নামে এক প্রকান্ড অট্টালিকা নিমিত হইল, তাহা এক্ষণে নিম্পািন শ্রেণীর শিক্ষালয় রাপে ব্যবহত হইতেছে। আমি সে প্রাসাদ দেখিয়াছি। তাহাতে নিম্পন শ্রেণীর জন্য পাঠাগার, পস্তকালয়, রঙ্গালয়, ভোজনাগার প্রভৃতি সকলই আছে। ঐ প্রাসাদের মধ্যে দন্ডায়মান হইলে ইংরাজদের পরহিতৈষণার নিদশন দেখিয়া শরীর কণ্টকিত হইতে থাকে। ইংলন্ডে শ্ৰমজীবীদিগের শিক্ষালয়। আমি একদিন ওয়াকিং মেনস ইনস্টিটিউটের একটি পাঠাগার দেখিতে গেলাম। একটি ১৭ ৷৷ ১৮ বৎসর বয়স্ক শ্রমজীবী যবক আমাকে লাইতে আসিয়াছিল। সে ব্যক্তি তখন একজন সোঁকরার সহকারীর কাজ করত। সে আমাকে সঙ্গে করিয়া উত্তর লন্ডনে এক ইনস্টিটিউটে লইয়া গেল । সে এক প্রকাশড বাড়ি। প্রবেশ করিয়া দেখি, তাহাতে নানা প্রকার আলোচনা ও উপদেশাদির জন্য নানা ঘর। কোনো ঘরের দাবারে লেখা রহিয়াছে 'কেমিলিট্র”; শানিলাম, সে ঘরে সপতাহের মধ্যে কয়েকদিন সন্ধ্যার সময় কিমিতি বিদ্যা বিষয়ে উপদেশ হয়; ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখি, একটি ছোটখাট ল্যাবরেটরি প্রস্তুত। কোনো ঘরের দাবারে লেখা ‘ফিজিকস অর্থাৎ পদাৰ্থ বিদ্যা; ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখি, পদাৰ্থ বিদ্যা বিষয়ে উপদেশের আয়োজন। এইরপ নানা ঘরে নানা আয়োজন দেখিলাম। সম্পাদক মহাশয়ের সহিত আলাপ করিয়া জানিলাম, তিনি তৎপবে চৌদ্দ বৎসর কাল ঐ কাজ করিতেছেন, বেতন লন না। প্রতিদিন বৈকালে নিজের আপিস হইতে আসিয়া ܬܠܬܔ