পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভালো নিদ্রা হইল না। পরদিন দপারবেলা মাথা ধরিয়া সে অসময়ে কলেজ হইতে বাড়িতে আসিল। তখন একাকিনী সেই মেয়ে ঘরে আছে, পতি দোকানে। সে আসিয়া মেয়েটিকে বলিল, “দেখ, আজি মাথাটা বড় ধরেছে, আমাকে এক পেয়ালা চা করে দিতে পার ?” মেয়েটি বলিল, “পারি বৈ কি!” এই বলিয়া চা প্রস্তুত করিতে গেল। চা লইয়া আমাদের যাবকের নিজান বৈঠকগহে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “তোমার কি হয়েছে ? কেন মাথা ধরেছে ? তোমার মাখ বড় খারাপ দেখাচ্ছে, রাত্রে কি ঘামাও নাই ? তোমার মনে কোনো অসংখ নিশ্চয় আছে; কি, তা বল না। আমাদের দ্বারা যদি দরি হয়, আমরা তা করতে রাজি আছি।” ইত্যাদি। এই সন্ধিক্ষণে আমাদের যবকটি মেয়েটির মাখের দিকে চাহিয়া আর আত্মসংবরণ করিতে পারিল না। মনের আবেগে তাহার হাতখানি ধরিয়া বলিল, “তুমি বসো, আমি বলিতেছি।” এই হাত ধরিবার ভাবে ও মাখের ভাবেই মেয়েটিও আসল কথা বঝিতে পারিল। এতদিন তাহার কাছে যাহা প্রচ্ছন্ন ছিল, তাহা প্ৰকাশ হইয়া পড়িল। সে নিজের হাত ছাড়াইয়া লইয়া, বিস্ময়াবিন্স্ট হইয়া বলিল, “এ কি, মিসটার অমাক! তুমি না বিবাহিত লোক ? তোমার না দেশে সত্ৰী আছে ? ভারতবর্ষের বিবাহিত মানষেরা কি এরােপ ব্যবহার করতে পারে ?” তাহার পর আমাদের সেই যবকটির মাখে যাহা শনিয়াছি, তাহা এই : মেয়েটির এই কথাতে আমার যেন মনে হইল যে আমার বকে একখানা শাণিত ছোরা বসাইয়া দিল! আমার মাথা ভোঁ-ভোঁ করিয়া ঘরিতে লাগিল, আমি তাহার হাত ছাড়িয়া দিয়া মাথা হোেট করিয়া রহিলাম। মেয়েটি কিয়ৎক্ষণ নিবাক দাঁড়াইয়া থাকিয়া চায়ের পেয়ালাটা আমার টেবিলের উপর রাখিয়া চলিয়া গেল। আমি আর চা কি খাইব, চক্ষ মন্দিয়া পড়িয়া ভাবিতে লাগিলাম। অনেকক্ষণ পর উঠিয়া তাহার পতিকে এক পত্র লিখিলাম, তাহার সংক্ষিপত মম এই। “আমি যে তোমাদের বাড়ি ছাড়িয়া যাইতেছিলাম তাহার কারণ এই যে, তোমার সত্ৰীকে দেখিয়া প্রলব্ধ হইতেছিলাম, যদিও সে বেচারি কিছ জানিত না। আজ আমি তাহাকে নিজান ঘরে পাইয়া মনের আবেগ সংবরণ করিতে না পারিয়া অপমান করিয়াছি। কিরােপ অপমান করিয়াছি, তাহা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেই জানিতে পরিবে। এখন তুমি আমার নিকট কি প্রতিশোধ চাও, জানাইবে। যদি তুমি পদাঘাত করিয়া আমাকে তাড়াও, তাহাতে দঃখিত হইব না; যদি অর্থদণ্ডড করা, কত অৰ্থ দিতে হইবে তাহা জানাইবে; আর আমার নিকট যাহা প্রাপ্য হইয়াছে, তাহার একটি বিল দিবে। কল্য প্রাতেই আমি তোমাদের ভবন পরিত্যাগ করিব। তোমার সত্ৰীকে আমায় মাপ করিতে ঘালিবে। আর আমি অ্যাজ সন্ধ্যার সময় তোমাদের সহিত আহার করিব না; আমার খাদ্যদ্রব্য আমার ঘরের টেবিলে রাখিতে বলিবে, আমি বেড়াইয়া আসিয়া রাত্রে আহার করিব।” সন্ধ্যার সময় এই পত্র তাহার পত্নীর হাতে দিয়া আমি বেড়াইতে গেলাম। তাহার পর রাত্রে আসিয়া দেখি, আমার টেবিলের উপর আমার খানা রহিয়াছে। আহার করিয়া শয়ন করিলাম। প্রাতে উঠিয়া আমার জিনিসপত্র বধিতেছি, এমন সময়ে দেখি মেয়েটি চা লইয়া হাসিতে হাসিতে আসিয়া উপসিস্থত। তাহাকে দেখিয়াই আমি লঙ্কজাতে মাখ অবনত করিলাম। মেয়েটি বলিল, “তুমি আমার স্বামীকে যে পত্র লিখেছ, তা আমি পড়েছি। তুমি বড় ভালো লোক। দেখ, এরপ প্রলোভন আমাদের অনেকের পথে আসতে পারে; ঈশ্ববরের নাম, করে তাকে দরে ফেলে দিলেই হল। তোমার ও-প্রলোভন থাকবে না। তুমি আমাকে বোনের মতো দেখা না ? আমাকে SRO8