পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আপেল হইতে যদি জেলি প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করা যায়, তবে হাজার হাজার আপেল সারার ব্যবসা হইতে তুলিয়া লইয়া আহারের কাজে লাগানো যাইতে পারে। এই পরিবারের জননী সর্বীয় ভ্ৰাতার সহিত এই পরামর্শ করিয়া উভয়ের অর্থ সাহায্যে একটি জেলি প্ৰস্তুত করিবার কল খাড়া করিলেন। ভাই হইলেন পল্লীপিং পার্টনার, অর্থাৎ অৰ্থ দিলেন মাত্র, কাজে বসিলেন না; ভগিনী হইলেন ম্যানেজিং পাটনার, অর্থাৎ কাষাধ্যক্ষ । এই পরিবারের ছোটকন্যা পাব হইতে ব্ৰাহমসমাজের অন্যরাগিণী ছিলেন, এবং আমাদের অনেকের নাম শানিয়াছিলেন। তিনি আমাকে লন্ডনে বার-বার পত্র লিখিতে লাগিলেন যে, আমাকে একবার তাঁহাদের গ্রামে ও তাঁহাদের বাড়িতে যাইতেই হইবে। তাঁহার পত্রে বার-বারা দেখিতে লাগিলাম, “একবার আসিয়া দেখ, তিনজন মেয়ে জীবনকে কিরাপে চালাইতেছে।” একবার সেই ছোটকন্যা ক্যাথারিন লন্ডনে আসিয়া আমার সঙ্গে দেখা করিলেন এবং আমাকে অস্ট্রীটে লাইবার জন্য আগ্রহ প্ৰকাশ করিতে লাগিলেন। অবশেষে আমি, ইহাদের ভবনে কিছদিন যাপন করিবার পরে প্রফেসর এফ. ডবলিউ. নিউম্যানের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া আসিব, এই মানসে লন্ডন হইতে যাত্রা করিলাম। ইহাদের ভবন হইতে ফিরিবার সময় প্রফেসর নিউম্যানের ভবনে দইদিন অতিথি রাপে ছিলাম, তাহার বর্ণনা পাবেই করিয়াছি। অস্ট্রীটের রেলওয়ে সেন্টশনে গিয়া দেখি, ক্যাথারিন গাড়ি লইয়া উপস্থিত। অধ দন্ডের মধ্যে আমার জিনিসপত্র গাড়িতে উঠিল, ক্যাথারিন আমাকে পাশে বসাইয়া গাড়ি হাঁকাইয়া চলিলেন। দীপারবেলা বাড়িতে পৌছিয়া তাঁহার মাতাকে দেখিলাম; তাঁহার দিদিকে দেখিলাম না, তিনি তখন তাঁহার আপিসে আছেন। আমাকে কিঞ্চিৎ জলযোগ করাইয়াই ক্যাথারিন বলিলেন, “চল, বেড়াইয়া আসি।” এই বলিয়া আমাকে এক নিজািন পাহাড়ের উপর বনের ভিতর লইয়া গেলেন। গিয়া বলিলেন, “আমার ধমািজীবনের অবস্থার বিষয় তোমাকে বলিবার জন্য এই নিজনে আনিয়াছি। আমি প্ৰাতঃকাল হইতে হাঁটিয়া বড় ক্লান্ত আছি, আমি এই ঘাসের উপর শইয়া কথা কহিব, তুমি কিছ মনে করিও না।” এই বলিয়া আমার সম্মখে ঘাসের উপরে শইয়া পড়িলেন, এবং নিজের ধমজীবনে কিরাপে কি কি পরিবতন ঘটিয়াছে, বলিতে লাগিলেন। তাহার সংক্ষিপত বিবরণ এই । তিনি পঠদ্দশাতে একজন সহাধ্যায়িনী বালিকার ভ্রাতার সংশ্রবে। আসিয়া ব্লাডলার দলের নাস্তিকদের পক্ষ অবলম্বন করিয়াছিলেন। ক্যাথরিনের মাতা ও ভগিনী। কিন্তু গোঁড়া খন্টান। তাঁহার ভাব পরিবতনের কিঞ্চিৎ আভাস পাইয়া জননী ও ভগিনী বড়ই দঃখিত হন। কিন্তু জগদীশবর তাঁহাকে ত্বরায় এই নাস্তিকতা হইতে উদ্ধার করেন। তখন তাঁহার মত সাবভৌমিক একেশবরবাদে দাঁড়ায়। এই সময়ে ঘটনাক্ৰমে ব্ৰাহসমাজের কথা জানিতে পারিয়া তিনি এ বিষয়ে অন্যাসন্ধান আরম্ভ করেন। শেষে মনে-মনে সঙ্কলাপ করেন। যে, অবিবাহিতা থাকিয়া ঈশবর ও মানবের সেবাতে আপনার দেহ মনের সমাদয় শক্তি অপণ করবেন। তাহাই তখন করিতেছেন। আমি দইদিন ইহাদের ভবনে থাকিয়া অপােব ব্যাপার দেখিলাম। অগ্ৰেই বলিয়াছি, তাহা সন্ত্রীলোকের বাড়ি, পরিষের নাম গন্ধ নাই; চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একটি পরিষের মািখ দেখা যায় না। যেরপে তাঁহাদের দিন যাইত, তাহা এই। বড়কন্যাটির ধমভাব বড় প্রবল। তিনি ভোরে উঠিয়া নানা প্রকার ধমগ্রন্থ বা ভালো २७७