পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একবিংশ পরিচ্ছেদ ৷ ১৮৮৮ ইংলগড হইতে ভািবদেশ প্রত্যাবতন আমার ইংলণড যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেখিয়া শনিয়া শিক্ষা করা। নানা অনষ্ঠান ও ইংরাজ জাতির সর্বভাব চরিত্র রীতি নীতি পরিদর্শন করিতে, এবং নানা শ্রেণীর লোকের সহিত দেখা সাক্ষাৎ করিতেই আমার অধিকাংশ সময় ব্যয়িত হইত। এতদ্ব্যতীত লন্ডনে ও মফঃসলের নানা সস্থানে ব্ৰাহমসমাজের বিষয়ে বস্তৃতা করিয়াছিলাম, এবং ইউনিটেরিয়ানদিগের দ্বারা ও ব্ৰাহম (থিইসিটক) আচাৰ্য ভয়সী। সাহেবের দ্বারা আহত হইয়া তাঁহাদের উপাসনা মন্দিরে কয়েকবার উপদেশ দিয়াছিলাম। তদিভন্ন সরাপানের বিরুদ্ধে এবং ভারতবষের ধর্ম সমাজ ও শিক্ষার অবস্থা বিষয়েও নানা সভাসমিতিতে কয়েক বার বক্তৃতা করিয়াছিলাম। লিন্সটলে রাজা রামমোহন রায়ের স্পমতিসভা। ১৮৮৮ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর দিবসে মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের মাতু্য দিনে ব্রিস্টল নগরে তাঁহার সমিতিতে এক সভা করিবার জন্য ঐ নগরে যাই। তৎপবোঁ আমি ও আমার বন্ধ দরগামোহন দাস উদ্যোগী হইয়া আনোস ভেল নামক সমাধি ক্ষেত্রে দাবারকানাথ ঠাকুর বিনিমিত রাজার সমাধি মন্দিরের মেরামতের বন্দোবস্ত করিয়াছিলাম। কিরােপ মেরামত হইল, তাহা দেখিবারও ইচ্ছা ছিল। ঐ দিন আমি সমস্ত দপারবেলা রাজার সমাধি মন্দিরে যাপন করি, এবং সন্ধ্যার সময় এক প্রকাশ্য হলে রাজার বিষয়ে বস্তৃতা করি। রাজার সন্মতি যে এখনও ব্রিসন্টলবাসীর মনে আছে তাহা জানিতাম না। আমি দপারবেলা সমাধি মন্দিরে বসিয়া আছি, দেখিলাম। সেই সময়ের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি আসিয়া সমাধি মন্দিরের সমক্ষে ভক্তিভাবে দাঁড়াইয়া সমাধিতে লিখিত বাক্যগালি পাঠ করিতে লাগিলেন। তৎপরে সন্ধ্যার সময় আমার বস্তৃতা শেষ হইলে দেখি যে, একটি বাদ্ধা সত্ৰীলোককে লোকে ধরিয়া সভমধ্য হইতে আমার দিকে আনিতেছে। আমি তাঁহাকে দেখিয়া সসম্ভ্ৰমে তাঁহার দিকে অগ্রসর হইলাম। তিনি হসন্ত প্রসারিত ধরিয়াছিলাম। এস, আজ তোমার হাত ধরি।” বলিয়া মহোৎসাহে আমার হাত ধরিলেন। তাহার পর তাঁহার মাখে, কোথায় কিরাপে রামমোহন রায়কে দেখিয়াছিলেন, তাহা শানিলাম। ইংরাজ রমণীর স্বারা রাজা রামমোহনের পিমতি রক্ষা। পরে আর একটি ঘটনা ঘটিল, তাহাও চিরস্মরণীয়। মাতৃত্যুকালে রাজা রামমোহন রায়কে যে ডাক্তার চিকিৎসা করিয়াছিলেন, তাঁহার কন্যা তখনো জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁহার যৌবনকালে নিজ S86