পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


টাকাগলি লইয়া গেলেন। কিন্তু বাড়িতে গিয়াই শনিলেন, সে বিধবাটি তার পিতৃগাহে চলিয়া গিয়াছে। তখন টাকাগলি নিজের বাক্সের এক কোণে রাখিয়া দিলেন, মনে করিলেন, সে স্ত্রীলোকটি ফিরিয়া আসিলে নিজে তাহার হাতে দিবেন। - , তাহার পর দইমাস যায়, ছয়মাস যায়, সে আর আসে না। বাবা সে কথা ভুলিয়াই । গেলেন, এবং টাকাগলিও নিজের টাকার সঙ্গে মিশিয়া গিয়া খরচ হইয়া গেল। ১৫ । ১৬ বৎসর পরে বাবার সে কথা স্মরণ হইল; কিছদিন মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করিয়া অবশেষে অপর কাহাকেও না পাইয়া, নিজে দশ-বারো মাইল হাঁটিয়া গিয়া সেই বিধবাকে ১৫ টাকা দিয়া আসিলেন। দরিদ্র মানষেকে জীবনে বহন সময়ে বন্ধাদের নিকট হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে হয়। বাবার শেষ জীবনে বহবার তিনি নিজের পৰীকৃত কোনো ঋণের কথা স্মরণ হইবামাত্র অত্যন্ত অস্থির হইয়া আমার নিকট কলিকাতায় আসিতেন। একবার কলিকাতায় আসিয়া ব্ৰাহমসমাজ লাইব্রেরিতে আমার আপিস ঘরে কয়েকদিন ছিলেন। তন্মধ্যে একদিন বৈকালে আমি বেড়াইয়া আসিয়া দেখি, বাবা মলান মখে আমার খাটে শয়ন করিয়া আছেন। আমি। বাবা, আপনাকে বড় মালান দেখছি কেন ? বাবা। ওরে, একটা বড় ক্লেশের কারণ ঘটেছে। আমার মনের এই বড় ইচ্ছা যে এক পয়সা দেনা রেখে মরব না। মনে করছিলাম যে আর এক পয়সাও দেনা নাই। কিন্তু সেদিন ভাবতে ভাবতে মনে হল যে, আমি যখন কলেজে পড়ি, তখন শ্ৰীশ বিদ্যারত্ন আমার সঙ্গে পড়ত। কয়েকবার আমার অর্থাভাব হওয়াতে শ্ৰীশ আমাকে দাই-তিন বারে চল্লিশ টাকা কাজ দিয়েছিল। কথা ছিল যে কলেজ হতে বাহির হয়ে দজনে যখন কমে বসব, তখন আমি ঐ ৪০ টাকা শোধ দেব। তাহার পর আমি কোথায় গেলাম, সে কোথায় গেল। সে বিধবা-বিবাহের হাওগামার ভিতর পড়ল। সে টাকার কথা দজনেই ভুলে গেলাম। এতদিনের পর মনে হয়েছে, এখন কি করি ? এ কথাবাতা বোধ হয় ১৮৯৭ কি ১৮৯৮ সালের। বিদ্যারত্নমহাশয় (যিনি প্রথম বিধবাবিবাহ করেন)। তাহার অনেক বৎসর পাবে গতাস হইয়াছেন। আমি বলিলাম, “এ জন্য আপনি মন খারাপ করিবেন না। আমি খাঁজি, শ্ৰীশ বিদ্যারিত্নের কে আছেন।” আমি খাজিতে আরম্ভ করিলাম। সৌভাগ্যক্রমে তাঁহার প্রথম পক্ষের পত্রিকে জীবিত পাইলাম। তাঁহার নিকট গিয়া বলিলাম, “আমার পিতা পঠদ্দশায় আপনার পিতার নিকট চল্লিশ টাকা কাজ করিয়াছিলেন। এতদিনের পর তাহা সমরণ করিয়া তাঁহার মন চঞ্চল হইয়াছে। আপনি এই চল্লিশ টাকা গ্রহণ করান, করিয়া আমাকে একখানি রাসিদ দিন। আমি বাড়িতে তাঁহার কাছে রসিদ পঠাইয়া দিই, তাঁহার মন সস্থির হউক।” তিনি বলিলেন, “এ তো কখনো শনি নাই যে ৬৫ বৎসরের দেনা বাড়িতে BDDD GGB BDBDD DBS DD DBD DBD DBDBDDD DBB BBDDBDBDS S DDD সস্থির হইলেন। আর একবার শহরে আসিয়া আমাকে বলিলেন যে, আর একটা ঘটনার কথা মনে পড়িয়াছে। প্রায় ২৫ কি ৩০ বৎসর পাবে আমাদের গ্রামের ছেলেরা একটি পাবলিক লাইব্রেরি . করে। বাবা একবার শহরে আসিতেছিলেন, তখন ছেলেরা তাঁহার হাতে একটি বইয়ের তালিকা দিয়া বলে, “পন্ডিত মশাই, কোনো জানা-শোনা দোকান হতে এই বইগলি এনে দিবেন, পরে দাম দেওয়া যাবে।” তিনি তাঁহার একজন সমাধ্যায়ী বন্ধাের পস্তকালয় হইতে দশটাকার পস্তক লইয়া ঐ গ্রামস্থা যবকদিগকে দেন।

  • R 9S