পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আসে না, মা তাহাকে আর দেখিতে পান না। এদিকে দবৎসর উপস্থিত হইয়া প্রজাকুলের বড় অন্নকটে ঘটিল। এই সময়ে মা তাহাকে একদিন পথে দেখিতে পাইয়া তিরস্কার করেন। এই কথা শনিয়া বাবা বাড়িতে আসিয়া বলিলেন, “তুমি না হরচন্দ্র ন্যায়রত্নের মেয়ে ? তোমার গায়ে না। হিন্দির চামড়া আছে ? তুমি কি বলে। এই দাভিক্ষের সময় তাকে টাকার জন্য পীড়াপীড়ি করা ?” এই বলিয়া বৈকালে আপনাদের গোলা হইতে দইসের আন্দাজ চাউল কাপড়ে বধিয়া তিন-চারি মাইল হটিয়া তাহদের দিতে গেলেন। ঋণের টাকা আদায় দরে রহিল, তাহদের দারিদ্র্যের চিন্তায় বিব্রত হইলেন। আর একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। একবার আমাদের পাড়ার একটি গরীব লোকের ঘরবাড়ি আগমন লাগিয়া পড়িয়া গেল। বাবার এমন সামৰ্থ্য ছিল না যে তাহার ঘর তুলিবার বিষয়ে বিশেষ সাহায্য করেন। তিনি তাহাকে সঙ্গে করিয়া গ্রামের ভদ্রলোকদের বাড়িতে-বাড়িতে বেড়াইতে লাগিলেন এবং কাহারও নিকটে বাঁশ, কাহারও নিকটে দড়ি, কাহারও নিকটে পয়সা, কাহারও নিকটে টাকা আদায় করিয়া তাহার ঘর তুলিয়া দিবার ব্যবস্থা করিলেন। অবশেষে তাহাকে সঙ্গে করিয়া কলিকাতায় আমার নিকটে আসিয়া উপস্থিত—“ইহাকে কিছ টাকা তুলিয়া দাও।” আমি কিছ টাকা তুলিয়া দিলাম। আবার এই সহদেয়তা কেবল মানষের উপরে নয়, ইত্যর প্রাণীদের উপরে তাঁহার ভালোবাসা দেখিলে মগধ হইতে হয়। তিনি একটি কুকুর শাবককে শিয়ালের মািখ করিয়া কিরাপে তাহাকে বড় করিয়াছিলেন এবং কিরাপে তাহার নাম শেয়ালখাকী’ হইয়াছিল, তাহা অগ্ৰেই বলিয়াছি। একটি না একটি কুকুর বাড়িতে সর্বদাই থাকিত, তাহাকে অন্নমন্টি না দিয়া তিনি আহার শেষ করিতেন না। অনেক দিন কুকুরকে ভাতের সঙ্গে মাছ কেন দেওয়া হয় নাই বলিয়া আমার ভগিনী ও ভাগিনেয়ভাগিনেয়ীদের সঙ্গে তাঁহার ঝগড়া হইত। আমাদের একটি বিড়াল আছে, মা তাহার নাম রাখিয়া গিয়াছেন। ‘দালাচী”, অর্থাৎ তাহার গায়ে দলিচার ন্যায় সন্দর-সন্দর দাগ আছে। সেই দলচী বাবার বড় আদরে ছিলেন। তিনি মাছ ভিন্ন আহার করিতেন না, এবং বিছানা ভিন্ন শাইতেন না। মাতাঠাকুরাণীর যখন কাল হইল। তখন কয়েকদিনের জন্য আমাদের বাড়িতে মাছ আনা বন্ধ হইল। বাবা বাড়ির ছেলেদের জন্য তত ব্যস্ত হইলেন না, দলিচীর জন্য যত ব্যস্ত হইলেন। আমার ভগিনী কুস্যামকে বলিতে লাগিলেন, “ওরে কুসী, দলিচীর জন্যে মাছ আনতে দে।” কুসম বলিল, “নাও নাও, রেখে দাও, বেড়ালের জন্যে আবার মাছ কিনতে দেব! যা নয়, তাই!” বাবা বলিলেন, “ও কি শ্ৰাদ্ধ করতে বসেছে ? ও भाध्ये थICव का दaप ?' কুসন্ম। না, এ ক'দিন বাড়িতে মাছ আসতে দেব না। বাবা। আচ্ছা, তবে ওকে তোর বড়পিসীর বাড়ি থেকে মাছ খাইয়ে আন। এই লইয়া দাইজনে খাব ঝগড়া চলিল। ইতিমধ্যে আর এক ঘটনা উপস্থিত। কিছুদিন পরে দলচীর তিনচারিটি ছানা হইল। বাবা মহা ব্যস্ত, “ওরে কুসী, দলিচী রোগা হয়ে গেছে, ছানাগলো দধি পাবে। না। আর আধাসের দধে রোজ কর, ওরা খাবে, আর গিন্নী পাখিটা রেখে গেছেন, সেটাও খাবে। ” - ՀԳ d: