পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলেমেয়ে পড়ােব কি না, তার হাকুম অন্যে দিবে ? যদি কাহারও মেয়ে স্কুলে না যায়, আমার মেয়ে যাবে; দেখি, কে কি করে।” এই বলিয়া তিনি আমার ভগিনীদ্বয়কে লইয়া স্কুলে গেলেন ও পন্ডিতকে বলিলেন, “কেবল আমার মেয়ে আসবে ও তুমি আসবে, স্কুল এক দিনের জন্যও বন্ধ কোরো না। যদি কর, তা হলে গভর্ণমেণ্টের কাছে রিপোর্ট করে গভর্ণমেণ্ট সাহায্য বন্ধ করে দেব।” বাস্তবিক কিছদিন আমার ভগিনীদ্বয় ও পশ্চিডতমহাশয় এই তিনজনকে লইয়া স্কুল চলিল। এতদ্ব্যতীত ৱাহমদের প্রতি অন্যায় ব্যবহার হওয়াতে বাবা অগ্নিসমান জৰলিয়া উঠিলেন, এবং ৱাহমদের পক্ষ অবলম্বন করিলেন। তখন তিনি ১ বাড়ির লোকের সমক্ষে ৱােহমদের প্রশংসা করিতেন। ইহাও আমার ব্রাহমসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইবার অন্যতম কারণ। আশিবনের ঝড়। এখন নিজের জীবন বিবরণ আবার বলি। চৌধরিী মহাশয়দিগের ভবনে অবস্থান কালে ১৮৬৪ সালের আশি বন মাসে মহা ঝড় ঘটে। সেই ঘটনা সমিতিতে দঢ় রাপে মাদ্রিত রহিয়াছে। সেটা পাজার ছটির সময়, বোধ হয় পঞ্চমী কি ষষ্ঠীর দিন। অনেকে পাজার সময় কলিকাতা হইতে বাড়ি যাইতেছিল, সতরাং পথে ঝড়ে পড়িতে হয়। আমার সবগ্রামের একটি যািবক ও আমি দইজনে ঝড়ের পর্ব দিন শালতি করিয়া কালীঘাট হইতে বাসগ্রামের অভিমখে যাত্রা করি। সেদিন সন্ধ্যা হইতেই আকাশ ঘনঘটােচ্ছন্ন হইয়া জোরে বায় বহিতে আরম্ভ হয় ও বাল্টি নামে। সেই বায় ও বন্টিতে আমরা কোনো প্রকারে শালতিতে বসিয়া রাত্রি কাটাইলাম। শয়নের সখ আর হইল না। পরদিন প্রত্যুষে যখন মেঘের অন্তরালে উষার আলোক দেখা দিল, তখন দেখিলাম আমাদের শালতি মগরাহাট নামক সন্থানের উত্তরে জালাসি নামক দাবীপগ্রামের কিঞ্চিৎ উত্তরে, বিশাল জলা ও ধান্যক্ষেত্রের মধ্যে, ঝড় ও তরঙ্গের আঘাতে আন্দোলিত হইতেছে। বায়ার বেগ এত অধিক যে সম্পমখ দিকে এক পা। অগ্রসর হওয়া কঠিন। কোনো প্রকারে শালতির চালকদ্বয় জালাসি গ্রামের বাজারের ধারে গিয়া শালতি লাগাইল। আমরা লাফাইয়া তীরে উঠিলাম এবং একটি দোকানে গিয়া আশ্রয় লইলাম। দেখিলাম, আমাদের ন্যায় আরও কয়েকজন শালতির যাত্রী নানা সন্থান হইতে আসিয়া সেখানে আশ্রয় লইয়াছে। তখনো কাহারও মনে হয় নাই যে ঝড় অবিলম্বে ভীষণ সাইক্লোনের আকার ধারণ করবে। সকলে পরামর্শ হইতে লাগিল যে, সকলে মিলিয়া খিচুড়ী রাধিয়া খাওয়া যাক। যাত্রীদের মধ্যে দইজন ব্রাহীমণ এই কাব্য করিতে স্বীকৃত হইলেন। বলিলেন, দইজনের জন্য রাঁধাও যা, দশজনের জন্য রাঁধাও তা। আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে সেই দিযোগের দিনে খিচুড়ী খাইতে পাইব বলিয়া আনন্দিত হইতে লাগিলাম। কিন্তু দেবতা আর এক প্রকার বন্দোবস্ত করিলেন। সাইক্লোনে অদম্য পথিকের গান। খিচুড়ীর পরামর্শ শেষ হইতে না হইতে দোকানদারের সহিত চাউল দাউলের মাল্য নির্ধারণ হইতে না হইতে, হা-হা করিয়া সাইক্লোনের বায় ডাকিয়া আসিল। আমাদের চক্ষের সমক্ষে কয়েকখানি চালা-ঘর পড়িয়া গেল। অবশেষে যে দোকানে আমরা বসিয়া ছিলাম, সে ঘর কাঁপিতে লাগিল। আমরা বিপদ গণনা করিয়া কোমর বধিতে লাগিলাম। তখনো দেখি যাত্রীদের মধ্যে এক ব্যক্তি u DD DSBBB S BBDBBDSDDDD DDBD BDBS BDD BBBBD গাইতেছেন। তাঁহাকে বলা গেল, “মশাই, গান রােখন, কোমর বাঁধন, এ-ঘর যে পড়ে।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “রেখে দেও ঘর পড়া, গাইতে বড় ভালো লাগছে; VE O ■