পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শোনো শোনো কীন্তনটা শোনো।” আর শোনো! চড়াচড় করিয়া ঘর হেলিতে লাগিল, আমরা দৌড়িয়া বাহিরে গেলাম, সে ভদ্রলোকটি চাপা পড়িলেন। যেই ঘরের বাহির হওয়া, অমনি আমাদিগকে ঝড়ে উড়াইয়া কোথায় লইয়া গেল! সৌভাগ্যক্ৰমে আমার সবগ্রামবাসী সেই যােবক বন্ধটির সহিত আমি হাতে হাত বধিয়াছিলাম, আমাদের দইজনকে অধিক দরে লইয়া যাইতে পারিল না। একখানা দোকানঘর পড়িয়া গিয়া তাহার দাখানা চাল মাটিতে পড়িয়া দাঁড়াইয়া ছিল, আমরা দজনে গিয়া তাহার উপরে পড়িলাম। পড়িয়া ভাঙা ঘরের খাটি ধরিয়া ঝড় ভোগ করিতে ও থারথার করিয়া কপিতে লাগিলাম। দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া দেখি, সেই কীৰ্তনকারী ভদ্রলোকটি পবেকার দোকানঘরের চাল ফড়িয়া উপরে উঠিতেছেন। আমাদিগকে আদরে BBBBDD DDD DDBBDB DDBBDS BBD S DBDD DBB DBBDDBB DDD DBDD হাসিয়া বলিলেন, “বড় পিতৃপণ্যে বেচে গেছি। আপনারা বোধ হয় ভাবছিলেন মারা পড়েছি। আরও কিছুদিন কম ভোগ বাকি আছে কি না, এখন কোন যাব ?” বলিয়া খব হাসিতে লাগিলেন। তাঁহার সেই হাসি আমার আজও মনে আছে। কতবার ভাবিয়াছি, এরপ সিখে দঃখে প্ৰসন্ন চিত্ত পাওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কতকগলি মানষ এরােপ আছে, যাহাদিগকে কিছতেই বিষন্ন করিতে পারে না। ইহাদের অবস্থা সপহণীয়। কিয়ৎক্ষণ তিনজনে ঝড় ভোগ করিয়া পরামর্শ করা গেল যে, আদরে রাণী রাসমণির কাছারি বাড়ি দেখা যাইতেছে- সে গ্রামটা তাঁহারই জমিদারী-সেই কাছারিতে গিয়া আশ্রয় লওয়া যাউক । তিনজনে হাত ধরাধরি করিয়া বাহির হইলাম। কাছারি বাড়ির নিকটস্থ হইতে না হইতে সমগ্র বাড়ি ভূমিসাৎ হইল। চারিদিকের প্রাচীর পর্যন্ত ধরাশায়ী হইয়া সমভূমি হইয়া গেল। ঝড়ের বন্ধ। তখন বাত্যার প্রকোপ দদান্ত দৈত্যের বিক্রমের ন্যায় হইয়াছে। গ্রামের প্রায় একখানিও গহে দণ্ডডায়মান নাই, সমাদয় সমভূমি হইয়াছে। চারিদিকে চাহিতে চাহিতে আদরে একখানি গহ তখনো দণ্ডডায়মান দন্ট হইল। স্থির করা গেল যে, সেখানে গিয়া আশ্রয় লওয়া যাউক। গিয়া দেখি সেই গ্রামের সন্ত্রীলোক বালকবালিকাতে সে ঘর পরিপািণ ।। ঘরখানি নািতন ছিল বলিয়া তখনো দন্ডায়মান আছে। সেই গহস্বামী অতি বদ্ধ। তাহার যােবক পত্র বন্ধ পিতা মাতাকে তাড়াতাড়ি খাওয়াইয়া, ঘরের ভিতরে পরিয়া, বীরের ন্যায় কোমর বধিয়াছে, এবং সেই ঝড়ে ছটাছটি করিয়া চারিদিকের সন্ত্রীলোক বালক-বালিকা সংগ্ৰহ করিয়া সেই ঘরে পরিতেছে। আমরা ঘরের নিকটে পৌঁছিয়া দেখি সত্ৰীলোকে ঘর পরিপািণ । আমাদের সঙ্গের ভদ্রলোকটি ঠেলিয়া ঘরে ঢকিয়া পড়িলেন, আমাদের দই বন্ধর কিরাপ সঙ্কোচ বোধ হইতে লাগিল। আমরা দবার হইতে ফিরিয়া পাশেবর দাবাতে গিয়া দাঁড়াইলাম। তৎক্ষণাৎ সে দাবার চালটি আমাদের মাথার উপরে পড়িয়া গেল। তখন আমরা ভাবিলাম যে, এরাপে ঘর চাপা পড়িয়া মরা অপেক্ষা বাহিরের উঠানে বসিয়া ঝড় খাওয়া ভালো। এই ভাবিয়া বাহিরে যাইতেছি, এমন সময় গাহের ভিতর হইতে এক বন্ধা রমণীর কন্ঠস্বর শোনা গেল, “বাবা, তোমরা কোথায় যাও, ? এত লোকের যদি জায়গা হয়ে থাকে, তোমাদের দািজনেরও হবে।” তখন আমরা বাধ্য হইয়া গাহের ভিতরে প্রবেশ করিলাম। প্রবেশ করিয়া সত্ৰীলোক বালক-বালিকার ক্ৰন্দনের ধৰনি শনিয়া মনে হইতে লাগিল, সেখানে না ঢাকিলেই ভালো ছিল। রুমে বেলা অবসান VS