পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


»try?-94 ) ১৮৬৪ সালের আশ্বিনের ঝড় RS. পিতার তেজস্বিতা — অধিকাংশ গৃহস্থই জমিদার বাবুদের নিষেধ শুনিল, শুধু আমার বাবা ও মা শুনিলেন না। তাহারা উভয়ে তেজী মানুষ, আতিশয় সত্যপরায়ণ ন্যায়পরায়ণ লোক ছিলেন। বিদ্যাসাগরের প্ৰিয় লোক, তাহারা লোকের বিরাগের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন না। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রকৃতির অনেক দোষ গুণ আমার পিতাতে ছিল । তিনি বলিলেন, “কি ! এত বড় আম্পদ্ধার কথা ? আমার ছেলে মেয়ে পড়াব কি না, তার হুকুম অন্যে দিবে ? যদি কাহারও মেয়ে স্কুলে না যায়, আমার মেয়ে যাবে ; দেখি, কে কি করে।” এই বলিয়া তিনি আমার ভগিনীদ্বয়কে লইয়া স্কুলে গেলেন ও পণ্ডিতকে বলিলেন, “কেবল আমার মেয়ে আসবে ও তুমি আসবে, স্কুল এক দিনের জন্যও বন্ধ ক’রে না। যদি করি, তা হ’লে গভর্ণমেণ্টের কাছে রিপোর্ট ক’রে গভর্ণমেণ্ট সাহায্য বন্ধ ক’রে দেব।” বাস্তবিক কিছু দিন আমার ভগিনীদ্বয় ও পণ্ডিত মহাশয় এই তিন জনকে লইয়া স্কুল চলিল। এতদ্ব্যতীত ব্ৰাহ্মদের প্রতি অন্যায় ব্যবহার হওয়াতে বাবা অগ্নিসমান জ্বলিয়া উঠিলেন, এবং ব্ৰাহ্মদের পক্ষ অবলম্বন করিলেন। তখন তিনি বাড়ীর লোকের সমক্ষে ব্ৰাহ্মদের প্ৰশংসা করিতেন। ইহাও আমার ব্ৰাহ্মসমাজের দিকে আকৃষ্ট হইবার অন্যতম কারণ । ১৮৬৪ সালের আশ্বিনের ঝড় । জালাসি গ্রামে আশ্রয় গ্ৰহণ।—এখন নিজের জীবন বিবরণ আবার বলি। চৌধুরী মহাশয়দিগের ভবনে অবস্থান কালে ১৮৬৪ সালের আশ্বিন মাসে মহা ঝড় ঘটে। সেই ঘটনা স্মৃতিতে দৃঢ় রূপে মুদ্রিত রহিয়াছে। সেটা পূজার ছুটির সময়, বোধ হয় পঞ্চমী কি ষষ্ঠীর দিন। অনেকে পূজার সময় কলিকাতা হইতে বাড়ী যাইতেছিল, সুতরাং পথে ঝড়ে পড়িতে হয়। আমার স্বগ্রামের একটি যুবক ও আমি দুই জনে ঝড়ের পূর্ব দিন শালতি করিয়া কালীঘাট হইতে বাসগ্রামের অভিমুখে যাত্ৰা করি। সেদিন সন্ধ্যা হইতেই আকাশ