পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


గో শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৪র্থ পঢ়ি । পিতার বিরাগ।--প্রার্থনা আমাকে বল আনিয়া দিল যে বলিয়াছি, তাহার অর্থ এই যে, মানুষের ভুয় আমার মন হইতে চলিয়া যাইতে লাগিল, এবং নিজ বিশ্বাস অনুসারে চলিবার প্রবৃত্তি প্ৰবল হইতে লাগিল। পিতা কলিকাতায় আসিয়া শুনিলেন যে ব্ৰাহ্মসমাজের উপাসনাতে যাইতেছি। এক দিন আমাকে ডাকিয়া সমাজে যাইতে নিষেধ করিলেন। আমি ধীর ভাবে বলিলাম, “বাবা, আপনি জানেন। আপনার আজ্ঞা কখনও লজঘন করি নাই । আপনার সকল আজ্ঞা পালন করিতে রাজি আছি । কিন্তু আমার ধৰ্ম্মজীবনে হাত দিবেন না । আমি ব্ৰাহ্মসমাজের উপাসনাতে যাওয়া ত্যাগ করিতে পারিব না।” পরের বাসাতে পিতা আর কোন কথা বলিলেন না ; কিন্তু এই উত্তর তাহার এমনি নূতন ও ভয়ানক লাগিল যে, পরে শুনিয়াছি, সেদিন অনেক কঁাদিয়াছিলেন । আর দুই তিন দিন তঁহার কলিকাতাতে থাকিবার কথা ছিল, কিন্তু তৎপর দিনই দেশে চলিয়া গেলেন। পরে শুনিয়াছি, তিনি বাড়ীতে পৌছিলে তঁহার বিষয় মুখ দেখিয়া আমার মা ভীত হইয়া গেলেন। তঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার মুখ এত স্নান কেন, ছেলে কেমন আছে ?” বাবা গম্ভীর ভাবে উত্তর করিলেন, “সে মরেছে।” অমনি আমার মা, “কি বল গো ! ওগো কি বল গো !” বলিয়া কাদিয়া উঠিলেন। তঁহার ক্ৰন্দন ধ্বনি শুনিয়া পাশের বাড়ীর মেয়ের ছুটিয়া আসিলেন। আসিয়া বলিতে লাগিলেন, “কৈ, শিবুর ব্যায়রামের কথা ত শুনি নাই ।” তখন বাবা গম্ভীর স্বরে বলিলেন, “সে মারার মধ্যে। সে ব্ৰাহ্মসমাজে যেতে আরম্ভ করেছে ; আমি বারণ করলেও শুনবে না।” ர প্রার্থনার বল।—যাহা হউক, প্রার্থনার দ্বারা যেমন বল পাইলাম, তেমনি আশাও পাইলাম। আমার অন্তরাত্মা বলিতে লাগিল, ঈশ্বর আমাকে পাপী বলিয়া ত্যাগ করিবেন না। আমার বোধ হয়, পার্কারের