পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ফলাফল বিচার রহিত দুৰ্জ্জয় প্রতিজ্ঞ Σ διο 1 هو ووان والا মৌনব্ৰত ধরিলাম। এই মনের কান মলাটা তখন অতিরিক্ত মাত্ৰায় কিরিতাম । । হৃদয়ে ধৰ্ম্মভাবের উন্মেষ হওয়া অবধি আমি কলেজের পরীক্ষাতেও উৎকৃষ্ট হইতে লাগিলাম। তদবধি প্রতি বৎসর আমি কলেজে প্রথম স্থান অধিকার করিতে লাগিলাম। আত্মনিগ্রহের উদ্দেশ্যে, পাঠ্য বিষয়ে মধ্যে মধ্যে অপ্রীতিকর বােধে যে যে বিষয় অবহেলা করিতাম, তাহাতে অধিক মনোযোগী হইলাম। আমার মনে আছে, অগ্ৰে অঙ্কে অমনোযোগী ছিলাম; তাহার ফলস্বরূপ পরীক্ষাতে কখনও এক শতের মধ্যে বিশের উপর নম্বর পাইতাম না। ১৮৬৬ সাল হইতে তাহা বদলাইয়া গেল। অঙ্কে এরূপ মনোযোগী হইলাম যে ঐ বৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষাতে প্ৰথম শ্রেণীতে উৰ্ত্তীর্ণ হইয়া সেকেণ্ড গ্রেড স্কলারশিপু পাইলাম ; কলেজেও প্রথম হইলাম। তৎপরে সেই প্ৰতিজ্ঞ ও সেই দৃঢ় ব্রত রহিয়া গেল। কি কঠিন সংগ্ৰাম করিয়া ১৮৬৮ সালে এল এ পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হইয়াছিলাম ও ৫৯২১ টাকা স্কলারশিপ পাইয়াছিলাম, তাহার বর্ণনা ক্রমশঃ করিতেছি। আমার নব ধৰ্ম্মভাব আমাকে সেই সংগ্রামে শক্তি দিয়াছিল। ফলাফল বিচার রহিত দুৰ্জয় প্ৰতিজ্ঞ ।—বলিতে কি, আমার ধৰ্ম্মজীবনের আরম্ভ হইতে এই ১৮৬৮ সাল পৰ্য্যন্ত কালকে শ্রেষ্ঠ কাল বলিয়া মনে করি। এই সময়টা যে ভাবে যাপন করিয়াছিলাম, সেজন্য মুক্তিদাতা প্ৰভু পরমেশ্বরকে মুক্ত কণ্ঠে ধন্যবাদ করি। বিনয়, বৈরাগ্য, ব্যাকুলতা, প্রার্থনাপরায়ণতা প্ৰভৃতি ধৰ্ম্মজীবনের অনেক উপাদান এ সময়ে আমার অন্তরে বিদ্যমান ছিল। আমার যত দূর স্মরণ হয়, তখন আমার মনের ভাব এই প্রকার ছিল যে, আমার ধৰ্ম্মবুদ্ধিতে থাকিয়া ঈশ্বর যে পথ দেখাইবেন তাহাতে চলিতে হইবে, ক্ষতি লাভ যাহা হয় হউক। সকল বিষয়ে ও সকল কাৰ্য্যে ঈশ্বর চরণে প্রার্থনা করিতাম, এবং যাহা এক বার কৰ্ত্তব্য বলিয়া নিৰ্দ্ধারণ করিতাম, তাহাতে দুৰ্জ্জয় প্ৰতিজ্ঞার সহিত দণ্ডায়মান