পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৫ম পরিঃ4 হাইতাম ; ফলাফল ও জীবন মরণ বিচার করিতাম না। ইহার নিদর্শন স্বরূপ যোগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ু ও উপেন্দ্রনাথ দাসের বিধবা বিবাহ দেওয়া, ও আমার এল এ পরীক্ষার জন্য গুরুতর শ্রম, প্রভৃতি ঘটনার উল্লেখ করিতে পারা যায়। সে সকল ক্রমশঃ বর্ণনা করিতেছি। যোগেন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধবা বিবাহ দেওয়া - প্ৰথম ঘটনা, যোগেন্দ্রের বিধবা বিবাহ। এই বিবাহ ১৮৬৮ সালের প্রথম ভাগে হয়। ইহার ইতিবৃত্ত এই। ঈশানচন্দ্র রায় নামক নদীয়া-কৃষ্ণনগর নিবাসী ও কলিকাতা প্রবাসী একটি যুবক তখন কলিকাতা মেডিকেল কলেজে পাঠ করিতেন। তঁহার সঙ্গে তাহার মাতা ও একটি বিধবা ভগিনী ছিলেন। আমার জ্ঞাতি দাদা হেমচন্দ্ৰ বিদ্যারত্ন ( যিনি পরে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক হইয়াছিলেন ) ঐ মেয়েটিকে পড়াইতেন । হেম দাদার নিকট আমি মেয়েটির প্রশংসা সৰ্ব্বদা শুনিতাম। তিনি আমাকে বলিতেন যে, মেয়েটির ভাই তাহার। আবার বিবাহ দিতে চায়। আমি শৈশবাবধি বিদ্যাসাগরের চেলা ও বিধবা বিবাহের পক্ষ। আমি মনে মনে ভাবিতাম, আমার আলাপী কি কোনও ছেলে পাওয়া যায় না, যে মেয়েটিকে বিবাহ করিতে পারে ? ইতিমধ্যে আমার সহাধ্যায়ী বন্ধু যোগেন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বিপত্নীক হইলেন। তঁহার প্রথম স্ত্রীর পরলোক গমনের দশ বার দিনের মধ্যেই তাহার আত্মীয় স্বজন তঁহাকে পুনরায় দার পরিগ্ৰহ করিবার জন্য অস্থির করিয়া তুলিলেন। যোগেন্দ্ৰ আসিয়া আমাকে সেই কথা জানাইলেন এবং আমার পরামর্শ চাহিলেন। আমি বলিলাম, “যাও যাও, আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা ক’রো না। দশ বার দিন হ’ল তোমার স্ত্রী মরেছে, এর মধ্যে বিবাহের কথা । আর বিয়েই যদি করি, একটি আট নয় বছরের মেয়ে বিয়ে করবে। ত, তাতে আমার মত নেই। তোমার যা ইচ্ছে হয় কর।” যোগেন্দ্র সেদিন বিষন্ন অন্তরে ঘরে গেলেন। দুদিন পরে