পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S99 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৫ম পরিঃ সব ভালবাসেন। কেবল তা নয়, মা রাধিতে বসিলে সে রান্নাঘরের দ্বার চাপিয়া বসে, এবং “এই রকম ক’রে রাধ”, “ঐ রকম ক’রে রাধ” বলিয়া অনুরোধ করিতে থাকে। মা হাসিয়া বলেন, “ও রে, আমার পেটের ছেলে, ও কি ভালবাসে না বাসে তা কি আমি জানি না ?”- পরে আমরা কলিকাতা ত্যাগ করিলে এই বিস্তু আমাদিগকে ছাড়িয়া গিয়াছিল। সাধে কি আমি নারী জাতিকে ভালবাসি। যে পাপে ডুবিয়াছিল, পাপ যার দৈনিক আচরণ হইয়াছিল, তাহারও হৃদয়ে এই প্রেমের শক্তি, তাহারও এই কৃতজ্ঞতা ! আমার চাকর-ভাগ্য চিরদিনই ভাল। ইহার প্ৰমাণ পরে আরও প্রদত্ত হইবে। সংস্কৃত বেণীসংহার নাটকের অভিনয়।-১৮৬৯ সালের বসন্ত কালে আমরা সংস্কৃত কলেজের ছাত্ৰগণ মিলিয়া শোভাবাজারের রাজবাড়ীর নাটমন্দিরে সংস্কৃত বেণীসংহার নাটকের অভিনয় করিলাম। তাহার বিবরণ এই । সে বারে বি এ পরীক্ষাতে সংস্কৃত বেণীসংহার। পাঠ্য ছিল । আমাদের কলেজের উচ্চ শ্রেণীর ছাত্রেরা মনে করিলেন, সংস্কৃত বেণীসংহার অভিনয় করিয়া দেখাইলে বি এ ক্লাসের ছেলেদের বিশেষ উপকার হইতে পারে। এই ভাবিয়া তাহারা বেণীসংহারের অভিনয়ের যোগাড় করিতে লাগিলেন । অগ্ৰে তাহারা আমাকে সে সংবাদ দেন। নাই, অথবা আমাকে তঁহাদিগের পরামর্শের অংশী করেন নাই । যখন তাঁহাদের কাজটা কিয়দ্দূর অগ্রসর হইয়াছে, তখন আসিয়া আমাকে তাহাতে যোগ দিবার জন্য ধরিলেন । আমার পরামর্শটা মন্দ বোধ হইল না । বিশেষতঃ অভিনয় দেখা, আমার বাতিক। বৰ্ত্তমান বঙ্গ রঙ্গভূমি সকলে বারাঙ্গনা অভিনেত্রী প্রবিষ্ট করিবার পূর্বে আমি প্রায় প্রতি শনিবার অভিনয় দেখিতে যাইতাম। স্মরণ আছে যে সোমপ্রকাশের প্ৰতিনিধিরূপে হরিনাভি হইতে অভিনয় দেখিতে কলিকাতায় আসিতাম।