পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Y (V) শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৬ষ্ঠ পরিা হউক, ১৮৬৯ সালের প্রারম্ভে গোসাইজী তাহার ভুল স্বীকার করিয়া যখন আবার কেশব বাবুর সহিত সম্মিলিত হইতে চাহিলেন, তখন যেন আমার হৃদয়ের একটা ভার নামিয়া গেল। এই পুনৰ্ম্মিলন উপলক্ষে রাণাঘাটের সন্নিহিত কলাইঘাট নামক স্থানে, ভারতবর্ষীয় ব্ৰহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠার পূর্বে, একটা উৎসব হয়। ঐখানে গোসাইজী তখন সপরিবারে বাস করিতেন। আমি অপরাপর ব্ৰাহ্মের সহিত সে দিন সেখানে গমন করি। তৎপূৰ্ব্বে কেশব বাবুর সহিত সাক্ষাৎ ভাবে আমার আলাপ পরিচয় হয় নাই। সেই উৎসব ক্ষেত্রে আলোচনা স্থলে নরপূজার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থিত হইলে, আমি বলি, “মিরারে ও ধৰ্ম্মতত্ত্বে কে লেখেন তাহা আমি জানি না, কিন্তু উক্ত উভয় পত্রিকাতে যে ভাবে গোসাইজী ও যাদু বাবুর কথার উত্তর দেওয়া হইয়াছে, তাহা ন্যায় ও ভদ্রতার অনুগত ব্যবহার নহে।” ইহাতে কেশব বাবু কানে কানে অপর এক জনকে আমার বিষয় জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলিয়া দিলেন, “সোমপ্ৰকাশ সম্পাদক দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের ভাগিনা।” এটা মনে আছে, কেশব বাবু সেই দিন হইতে আমাকে বিশেষ ভাবে দেখিলেন ও চিনিলেন। আমি সে যাত্রা কেশব বাবুর সুপ্ৰসন্ন সরল ও স্বাভাবিক ভাব দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছিলাম। এক দিন সন্ধ্যার পর তিনি সশিষ্যে কীৰ্ত্তন করিতে করিতে নৌকাযোগে চুর্ণা নদীতে বেড়াইতে গেলেন। আমরা যাই নাই। প্রাতে উঠিয়া দেখি, কেশব বাবু ব্ৰাহ্মদের পায়ের তলাতে এক পাশে পড়িয়া ঘুমাইতেছেন। আহার করিতে বসিয়া দেখিতাম, তাহার বড়মানুষী কিছুই নাই, সামান্য ডাল ভাত মনের আনন্দে আহার করিতেছেন। এ সকল আমার বড় ভাল লাগিত । দীক্ষাগ্ৰহণ -ক্রমে ১৮৬৯ সালের ৭ই ভাদ্র (২২শে আগষ্ট) ভারতবর্ষীয় ব্ৰহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠার দিন আসিল। তখন কয়েক জন যুবককে দীক্ষিত করিবার প্রস্তাব হইল। আমার কোন কোন বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা