পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R o 8 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৮ম পরিঃ পরে শুনিলাম, সেই দোকানদার আমার নামে নালিশ করিবার জন্য জমিদার বাবুদের বাড়ীতে গেল। তাহারা তখন বন্ধু বান্ধব লইয়া মজ্বলিসে বসিয়া আছেন ; তাহার মধ্যে এই সংবাদ পাইয়া, বলিতে লাগিলেন, “কি, এত বড় আস্পৰ্দ্ধা ! আমাদের গ্রামে চাকুরী করতে এসে আমাদের কাজের উপর হাত ! এক বার গিয়ে শোন ত কি বলেন।” আর কোথায় যায় ! অমনি সেই বাড়ীর কয়েকটি যুবক লাঠি সোটা লইয়া স্কুল বাড়ীর অভিমুখে ধাবিত হইল। তাহারা আসিতেছে শুনিয়া আমি আমার নিকটস্থিত একটি ছাত্ৰকে বাড়ীর ভিতরের দিকে একটা তালা লাগাইতে বলিলাম। মনে করিলাম, ভিতরে তাল লাগান থাকুক, উত্তেজনা থামিয়া গেলে জমিদার বাবুকে সকল কথা ভাঙ্গিয়া বলিব। ছেলেটি তালা দিতে গিয়াছে, ওদিকে আক্রমণকারী দল উপস্থিত । তাহারা লাঠি মারিয়া ছেলেটির মাথা ফাটাইয়া দিল ; পরে স্কুল বাড়ীতে প্ৰবেশ করিল। আমি আত্মরক্ষার জন্য প্ৰস্তুত হইয়া নিৰ্ভয়ে গিয়া তাহদের সমক্ষে দাড়াইলাম। তাহারা আমাকে মারিল না। এক জন আসিয়া তাহদের কানে কানে কি বলিল, তাহারা একে একে বাহির হইয়া গেল । আদালতে মোকদ্দমা তুলিলে ইহাদের বিশেষ শাস্তি হইত, কিন্তু তাহা করা হইল না। ভালই হইল, কারণ ইহার পর জমিদার বাবু আমার প্ৰতি ও স্কুলের প্রতি বিশেষ সদৃদ্ভাব দেখাইতে লাগিলেন। হরিনাভি ব্ৰাহ্মসমাজ ; প্ৰকাশচন্দ্র রায়।-এই সকল কাজের মধ্যে হরিনাভিতে পদাৰ্পণ করিয়াই আমি হরিনাভি ব্ৰাহ্মসমাজকে উজীবিত করিবার চেষ্টা করি। কতকগুলি যুবক এই সময় হইতে আকৃষ্ট হইয়া সমাজে যোগ দেন। আমার অনুরোধে মহর্ষি দেবেন্দ্ৰনাথ ঠাকুর ও আচাৰ্য্য কেশবচন্দ্ৰ সেন উভয়েই হরিনাভি সমাজের উৎসবে গিয়া আমাদিগকে উৎসাহিত করেন। এই সময়ে আমার বন্ধু প্ৰকাশচন্দ্র রায়কে আমি স্কুলের সেকেণ্ড মাষ্টার নিযুক্ত করি। তিনি আমার সহিত স্কুল