পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৭৬, ৭৭ ] যুবকদলের উপর কেশবচন্দ্রের বিরাগ ও প্রভাব হ্রাস ২২৩ তৃতীয় বার আমরা কয়েক জন দেনার ভার লাইতে চাহিলাম। কোনও ক্রমেই কেশব বাবুকে এ কাৰ্য্যে রাজ করিতে পারা গেল না। আনন্দ মোহন বসু মহাশয় যদিও সমদৰ্শী দলে যোগ দেন নাই, একটু দূরে দূরেই ছিলেন, তথাপি তিনি এ বিষয়ে গুরুতর দায়িত্ব অনুভব করিতেন। মন্দিরটি যাহাতে ট্রষ্টী হস্তে যায়, তাহা তাহার একান্ত ইচ্ছা ছিল ; এবং কেশব বাবু এত আপত্তি করাতে তিনি বিরক্ত হইতে লাগিলেন। এক দিকে এই চেষ্টা চলিল, অপর দিকে ব্ৰাহ্ম প্ৰতিনিধি সভা নামে একটি সভা গঠনের চেষ্টা চলিল। আমরা প্ৰস্তাবকৰ্ত্তা, কিন্তু কেশব বাবু তাহাতে যোগ দিতে চাহিলেন। একটি কমিটি নিযুক্ত হইল, তাহাতে তিনি নাম দিলেন । কতকগুলি নিয়মাবলীও প্ৰণয়ন করা হইল। যুবক দলের উপর কেশবচন্দ্রের বিরাগ ও প্রভাব হ্রাস।-- এই সকল বিবাদের মধ্যে কেশব বাবুর ভাব দেখিয়া আমরা দুঃখিত হইতে লাগিলাম। তিনি সমদর্শী দলকে লক্ষ্য করিয়া রবিবাসরীয় মিরারে sceptics, secularists, unbelievers ७लडि কটুক্তি বর্ষণ করিতে লাগিলেন। আমি দুঃখিত হইয়া ঐ মিরারে ইহার প্রতিবাদ করিলাম। অতঃপর সংবাদপত্রের এই সকল উক্তি প্ৰত্যুক্তি, সমদর্শীর লেখা, ও যুবক ব্ৰাহ্ম দলের মধ্যে কেশব বাবুর আদর্শ সম্বন্ধে নানা আলোচনা উপহাস বিদ্রুপ, প্রভৃতির দ্বারা কেশব বাবুর অনুগত প্ৰবীণ ব্ৰাহ্ম দল ও যুবক ব্ৰাহ্ম দলের মধ্যে চিন্তা ও ভাবগত বিচ্ছেদ দিন দিন বাড়িতে লাগিল । এ বিষয়ে একটু খুলিয়া বলা আবশ্যক বােধ হইতেছে। ইহার কিছু দিন পূৰ্ব্ব হইতে কেশব বাবু বৈরাগ্য প্রচার করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। সে বৈরাগ্য কিরূপ তাহা একটু বলা ভাল। তিনি নিজের ত্রিতল ভবনের ছাদে একটি খোলার ঘর বাধিয়া নিজে রাধিয়া খাইতে লাগিলেন। আহারের যে নিয়ম ছিল তাহার বড় ব্যতিক্রম হইল না।