পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


રસr শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১০ম পরিঃ - দের মধ্যে কাজ করিয়াছিলেন। তিনি বলিলেন, “ও যখন ব্যাকুল হ’য়ে তোমাকে ডেকেছে, তখন নিশ্চয় কোন বিষয়ে তোমার সাহায্য চায় । চল, এক বার শিব ঠাকুরের গলিতে ওর বাড়ীতে যাই।” এই নিৰ্দ্ধারণ অনুসারে পরবর্তী রবিবার প্রাতে আমরা দুজনে শিব ঠাকুরের গলিতে তার বাড়ীতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। দেখিলাম, সেই বাড়ীটি এইরূপ স্ত্রীলোকে পরিপূর্ণ। তখন বেলা ৯টা, তথাপি তাহদের অধিকাংশ ঘরে ঘরে পড়িয়া ঘুমাইতেছে। অনেকে উঠিয়াছে, প্ৰাতঃক্রিয়া সম্পন্ন করিতেছে। এই মেয়েটির নাম থাকমণি। । থাকিমণি আমাদিগকে দেখিয়া আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া গেল। সে বোধ হয়। স্বপ্নেও ভাবে নাই যে, তাহার নিমন্ত্রণে আমি ঐরূপ স্থানে যাইব । তাহার ভাবে এক আশ্চৰ্য্য পরিবর্তন দেখিলাম । সে রাস্তাতে আমার সহিত কথা কহিবার সময়, হাসিয়া ঢলিয়া “তুমি’ ‘তুমি’ করিয়া কথা কহিয়াছিল; কিন্তু সেদিন আর এক মূৰ্ত্তি ধরিল। “আপনি” ও “আপনারা’ বলিয়া কথা আরম্ভ করিল ; এবং অতি গম্ভীর ও অনুতপ্ত ভাবে আপনার জীবনের বিবরণ ব্যক্ত করিতে প্ৰবৃত্ত হইল। সে বিবরণ সংক্ষেপে এই । সে কলিকাতার সন্নিকটবৰ্ত্তী কোনও স্থানের এক ভদ্র ব্ৰাহ্মণ পরিবারের কন্যা । তাহার মাতা ও ভ্ৰাতা তখনও জীবিত আছেন ; এবং সে বিপদে পড়িয়া প্রার্থনা করিলে অর্থ সাহায্য করিয়া থাকেন। বাল্য কালে এক জন কুলীন ব্ৰাহ্মণের সহিত তাহার বিবাহ হয়। তাহার অপর অনেকগুলি স্ত্রী ছিল ; সে কখনও পতি গৃহে যায় নাই, কালে ভদ্রে কখনও পতিকে দেখিয়াছে এই মাত্র। এই প্রকার অবস্থায় সে বয়ঃপ্ৰাপ্ত হইলে, পাড়ার এক জন পুরুষ তাহার পশ্চাতে লাগিল, এবং তাহাকে ফুসলাইয়া কুলের বাহির করিয়া আনিল। এই অবস্থাতে সে তৎকালীন চৌদ্দ আইনের ভয়ে কিছু কাল ভবানীপুরের সেই নির্জন স্থানে লুকাইয়া ছিল। সেখানে থাকিবার সময় সে আমাকে দেখিয়াছে ও আমার বিষয় অনেক কথা শুনিয়াছে। সেইখানে