পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ro. শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১০ম পরিঃ স্বামী তোমাকে আমার হাতে সঁপিয়া গিয়াছে। আমি কি এতই ছোট লোক যে বিশ্বাসঘাতকতা করব ? আমি সেই দিন তাহাকে যেরূপ তেজের সহিত উপদেশ দিয়াছিলাম, জীবনে আর কাহাকেও বোধ হয় সেরূপ দিই নাই। তৎপর দিন তাহার পতিকে ডাকাইয়া বলিলাম, “তোমার স্ত্রীকে নিয়ে যাও, ওকে বাইরে রাখা ভাল নয়।” সে তাহাকে লইয়া গেল । ইহার পর ঐ নারীকে আর এক বার দেখিয়াছিলাম। কয়েক বৎসর পরে সহরের সন্নিকটবৰ্ত্তী কোনও পথ দিয়া যাইবার সময় পথের পাশ্ববৰ্ত্তী এক বাড়ী হইতে তাহার পুত্রটি বাহির হইয়া আসিয়া আমাকে বলিল, “আমরা এই বাড়ীতে থাকি ; মা আপনাকে দেখতে পেয়েছেন, এক বার দেখা করবার জন্য ডাকছেন।” আমি বাড়ীতে প্ৰবেশ করিলে তাহার মাতা গলবস্ত্রে আমার পদে প্ৰণত হইয়া, আমার বাড়ীর সমুদয় সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল। আমি একটু দাড়াইয় তাহদের কুশল সংবাদ লইয়া চলিয়া আসিলাম । হরিনাভি সমাজের উৎসব ; রাজনারায়ণ বসু।--ক্রিমে আমরা ১৮৭৭ সালে উপনীত হইলাম। এই সালের প্রথমে হরিনাভি সমাজের উৎসবে যাই। সেখানে ভক্তিভাজন উমেশচন্দ্ৰ দত্ত মহাশয়ের গৃহে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্ৰাহ্মগণের সমাগম হয় । উক্ত অনুষ্ঠান ক্ষেত্রে আদি ব্ৰাহ্মসমাজের সভাপতি স্বগীয় রাজনারায়ণ বসু মহাশয়ও উপস্থিত ছিলেন । তিনি আমাকে বড় স্নেহ করিতেন। তঁহার সরল অকৃত্ৰিম ভক্তি আমাকে মুগ্ধ করিত। তিনি তখন কাৰ্য্য হইতে অবস্থিত হইয়া বৈদ্যনাথ দেওঘরে বাস করিতেছিলেন । আমি মধ্যে মধ্যে র্তাহার বিমল সহবাসে কিয়ৎকাল যাপন করিবার জন্য সেখানেও যাইতাম । তিনি অতি পরিহাস্যরসিক আমোদপ্ৰিয় পুরুষ ছিলেন, আমিও তদ্রুপ ; সুতরাং দুজনের একত্র সমাগম হইলে উভয়ের ‘জিাগল্পিষা” প্ৰবৃত্তি প্ৰবল হইয়া