পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৭৬, ৭৭ ] পীড়ার সময় পিতা মাতার ব্যবহার २७० উঠিত। হাসিতে হাসিতে লোকের নাড়ীতে ব্যথা হইয়া যাইত। এবারেও হরিনাভিতে তাহা ঘটিল। এক দিন রাত্ৰে সামাজিক উপাসনার পর আহারাস্তে আমাদের দুই জনের গল্পের কাটাকাটিতে রাত্রি ২টা বাজিয়া গেল। ব্ৰাহ্মদের নাড়ীতে ব্যথা হইল । জ্বর ও রক্ত কাশা -সেই কারণেই হউক, কি হরিনাভির ম্যালেরিয়াবশতই হউক, আমি কলিকাতায় আসিয়াই জরাক্রান্ত হইলাম । জ্বরের সঙ্গে রক্ত কাশ দেখা দিল। এক জন ডাক্তার বলিলেন, হঁাপ কাশের সূত্ৰপাত ; কিন্তু ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার বলিলেন, ক্ষয় কাশের সূত্ৰপাত। সেইরূপ চিকিৎসা আরম্ভ করিলেন। পীড়ার সময় পিতা মাতার ব্যবহার।—এই পীড়ার সময় আমার পূজনীয় জনক জননী কি করিয়াছিলেন, এবং আমার বিশ্বাসী অনুগত ভূত্য খোদাই কি করিয়াছিল, তাহা লিপিবদ্ধ করিবার উপযুক্ত। তৎপূর্বে আট বৎসর কােল আমার পিতাঠাকুর মহাশয় আমার মুখ দর্শন করেন নাই। তিনি যে প্ৰথম প্ৰথম আমাকে গ্রামে প্ৰবেশ করিতে দিবেন না বলিয়া গুণ্ডা ভাড়া করিতেন, ও শেষে সে প্ৰয়াস ত্যাগ করিয়াও আমি বাড়ীতে কোনও ঘরে আছি। জানিলেই সে ঘরের দিকে যাইতেন না, পথে আমাকে দেখিলে সে পথ পরিত্যাগ করিতেন, এ সকল অগ্ৰেই বলিয়াছি। আমি পীড়াতে পড়িয়া যখন বুঝিতে পারিলাম যে পীড়া কঠিন, আমার জীবন সংশয়, তখন তাহাকে সংবাদ দেওয়া উচিত মনে করিলাম। রোগ শয্যায় পড়িয়া তাহাকে পত্ৰ লিখিলাম। পীড়ার সংবাদ দিয়া লিখিলাম, “যদি উচিত বিবেচনা করেন, আসিয়া দেখা দিয়া আমাকে পদধূলি দিয়া যাইবেন । তাহা না হইলে এই বিদায়, পরলোকে দেখা হইবে।” তৎপূর্বে বাবা আমার চিঠিপত্র খুলিতেন না, উপরে আমার হস্তাক্ষর দেখিলে ছিড়িয়া ফেলিতেন । এ পত্ৰ যে কেন পড়িলেন, বলিতে পারি না। অনুমান করি, লোক মুখে অগ্ৰেই আমার পীড়ার সংবাদ পাইয়াছিলেন।