পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& 89 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ syn ofte কিরূপে ? এই চিন্তায় মন আন্দোলিত হইতে লাগিল। অপর দিকে ব্ৰাহ্মসমাজের এই নব আন্দোলন আমাকে ঘেরিয়া লইতে লাগিল ; আমার ধ্যানে জ্ঞানে প্ৰবেশ করিতে লাগিল ; আমি স্কুলের কাজেও ভাল করিয়া মন দিতে অসমর্থ হইতে লাগিলাম। কি করি কি করি, এই চিন্তাতে মন পূর্ণ হইয়া গেল। আমি আর ভাল করিয়া আহার করিতে পারি না, বা ভাল করিয়া নিদ্রা যাইতে পারি না। এই উদ্বেগের মধ্যে হজম শক্তি খারাপ হইয়া শরীর দুর্বল হইয়া পড়িতে ढव् ि। অবশেষে আমার চিরদিনের বিপদের বন্ধু যে ঈশ্বরের চরণে প্রার্থনা, তাহার শরণাপন্ন হইলাম। জীবনের প্রধান প্ৰধান সঙ্কটে ব্যাকুল প্রার্থনা আমার জন্য আলোক আনয়ন করে, আমি ঈশ্বরের বাণী শুনি । এক দিন বড় ব্যাকুল হইয়া প্রার্থনা করিতে বসিলাম। সে প্রার্থনার মৰ্ম্ম এই ঃ—“নারী যখন প্ৰেমাস্পদের জন্য পিতা মাতা গৃহ পরিবার আত্মীয় স্বজন সকলকে ত্যাগ করে, তখন পথের সম্বল বলিয়া আপনার অলঙ্কারের বাকুটি সঙ্গে লয়। কিন্তু আবশ্যক হইলে পরে তাহাও পথে ফেলিয়া চলিয়া যায়। তেমনি আমি তোমার জন্য সকলকে ছাড়িয়াও সংসারের সম্বল বলিয়া যে চাকুরীটি ধরিয়া আছি, হে ভগবান, আবশ্যক হইলে সেটিও ছাড়াইয়া আমাকে লইয়া যাও।” এই প্রার্থনার পর আমার মনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটিল ; সংসারের জন্য ভয় ভাবনা যেন কোথায় চলিয়া গেল। অন্তর হইতে “চাকুরী ছাড়, ছাড়,” এই বাণী আমাকে অস্থির করিয়া তুলিতে লাগিল। বন্ধুগণের অনেকে নিষেধ করিতে লাগিলেন ; কিন্তু আমি আর বিলম্ব করিতে পারি না ! একটা দিন যায়, যেন এক বৎসর যায় । মার্চের শেষ পৰ্য্যন্ত অপেক্ষা করিলে হেয়ার স্কুলের নিয়মানুসারে সে বৎসরের বোনাস (Bornus) স্বরূপ স্কুল ফণ্ড হইতে দুই শত কি তিন শত টাকা পাইতে পারিতাম ; শিক্ষক বন্ধুগণ সেজন্য বার বার