পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર૭ শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১২শ পরিঃ বিস্মৃতির মধ্যে পড়িয়া সুখের পশ্চাতে ছুটয়াছে। বলিতে কি, এই আন্তরিক সংগ্রামের জন্যই আমার দ্বারা যতটা কাজ হইতে পারিত, তাহা হইতে পারে নাই। আমি বহু বৎসর যেন দুই হাত দিয়া ঈশ্বরের সেবা করিতে পারি নাই ; এক হস্ত প্ৰবল প্ৰবৃত্তিকুলের সহিত সংগ্রামে আবদ্ধ রাখিতে হইয়াছে এবং অপর হাত দিয়া ঈশ্বরের সেবা করিয়াছি। সময় সময় মনে হইয়াছে, আমার মত’ দুর্বল ব্যক্তির প্রতি প্রধান কাৰ্য্যের ভার না থাকিলে সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের পক্ষে ভাল হইত ; ইহার প্রতি লোকের আরও শ্রদ্ধা জন্মিত। বাস্তবিক, এত দিন পরে যতই চিন্তা করিতেছি ততই মনে হইতেছে যে, যেরূপ গুরুতর কাৰ্য্যে হস্তার্পণ করিয়াছিলাম, তাহার গুরুত্ব যেন বহু দিন হৃদয়ঙ্গম করিতে পারি নাই ; সমুচিত দায়িত্ব জ্ঞান যেন জাগে নাই। বিবাদ বিসম্বাদের মধ্যে উৎসাহের সহিত নানা কাজে ছুটয়াছি, ধীর চিত্তে নিজের প্রকৃতির দুর্বলতা লক্ষ্য করিবার ও তদুপরি উঠিবার আয়োজন করিবার সময় পাই নাই ; কাজ কৰ্ম্মে অতিরিক্ত ব্যস্ততার মধ্যে নিবিষ্ট চিত্তে ধৰ্ম্মজীবনের গাঢ়তা ও গভীরতা সাধন করিবার সময় পাই নাই। কত বার মনে করিয়াছি, দূর হােক সরিয়া পড়ি, সকলের পশ্চাতে থাকিয়া উৎসাহ দান দ্বারা কাৰ্য্য করি ; কিন্তু ঘটনার পর ঘটনার স্রোতে আমাকে টানিয়া সম্মুখে লইয়াছে। ঈশ্বর আমাকে দূরে বা পশ্চাতে যাইতে দেন নাই। সে সকল কথা আর ভাঙ্গিয়া লিখিবার প্রয়োজন নাই। এখন সে সব সংগ্ৰাম চলিয়া গিয়াছে। যে প্রবৃত্তি সৰ্প মধ্যে মধ্যে আমাকে বেষ্টন করিয়া শক্তিহীন করিত, ঈশ্বর তাহাকে হত করিয়া - আমাকে মুক্তি দিয়াছেন। তিনি যাহা করেন তাহাই ভাল ; আমাকে যে এত দিন কঠিন সংগ্রামে রাখিয়াছিলেন, তাহাও মঙ্গলের জন্য। যে সকুল বলদ পথে চলিতে চলিতে উভয় পাশ্বের তৃণ গুল্ম খাইতে চায়, তাহদের মুখে চামড়ার