পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের নামকরণ ও তাহার ফল Sc) বাবুর সমাজের নাম “ভারতবৰীয় সমাজ, তঁরা দেশে আছেন। তোমরা দেশ কালের অতীত হইয়া যাও।” সেখান হইতে আমরা নূতন সমাজের নাম ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ” রাখা স্থির করিয়া আসিলাম। সেই নামই রাখা হইল। কিন্তু এই নাম রাখিয়া তিন দিকে তিন প্রকার ফল ফলিল। প্ৰাচীন ব্ৰাহ্মদিগের অনেকে এ নাম পছন্দ করিলেন না, তঁহাদের চক্ষে যেন কেমন হাল্কা হাল্কা বোধ হইতে লাগিল ; ছেলে-ছোকরার ব্যাপার, হট্টগোল, এই ভাব তাহদের মনে আসিতে লাগিল। এই কারণেই বোধ হয়, প্ৰাচীন ব্ৰাহ্মদিগের, মধ্যে যাহারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিবেন। আশা করা গিয়াছিল, তঁহাদের অনেকে তেমন করিয়া যোগ দিলেন না, দূরে দাড়াইয়া দেখিতে লাগিলেন। দ্বিতীয়তঃ, এই নাম লওয়াতে বাহিরের লোকে মনে করিল, এ সমাজ কাহারও বিশেষ সম্পত্তি নয়, সাধারণের সম্পত্তি ; এখানে যথেচ্ছ ব্যবহার কবিবার অধিকার আছে। এই কারণে বাহিরের লোকের মধ্যে কেহ মন্দিরের দ্বারে গোলযোগ করিলে যদি তাহাতে বাধা দেওয়া যাইত, তবে তাহারা বলিয়া উঠিত, “এটা যে সাধারণ সমাজ, এখানে আবার বাধা দেও কেন ?” আমরা শুনিয়া হাসিতাম। তৃতীয় ফলটি সৰ্ব্বাপেক্ষা গুরুতর। এই নামের প্রভাবে, র্যাহারা ইহার সভ্য হইলেন, তঁহাদের মনে নিরন্তর এই কথা জাগিতে লাগিল যে, ব্যক্তিগত প্ৰাধান্যে বাধা দেওয়াই এ সমাজের প্রধান কাজ। কৰ্ম্মচারীদিগের কাজের সহায়তা করা অপেক্ষা তীহাদের কাজের দোষ প্ৰদৰ্শন করা ও তঁহাদের ব্যক্তিত্বকে সংযত করাই যেন সভ্যদিগের প্রধান কৰ্ত্তব্য। এই ভাব লইয়া কাৰ্য্যারম্ভ করাতে প্ৰথম প্রথম কিছু দিন আমাদের পক্ষে কৰ্ম্মচারী পাওয়া কঠিন হইয়া দাড়াইয়াছিল। বাৰ্ষিক সভাতে কাৰ্য্যবিবরণ উপস্থিত হইলে সভ্যগণ এ ভাবে বসিতেন না যে, অবৈতনিক কৰ্ম্মচারীগণ যিনি যতটা কাজ করিয়াছেন, সে জন্য ধন্যবাদ