পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৭৮ ] : সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের প্রথম প্রচারক দল RV গৃহিণীর মুখে শুনিতাম, এই সময় তিনি মামলা মোকদ্দমার কাগজ পত্ৰ দেখিলেই বলিতেন, “এগুলো যেন কাল সাপ, দেখলেই ভয় হয়। পেটের দায়ে ব্যারিষ্টারি করা।” হাইকোটের এটর্নিরা আমাকে বলিতেন, “হায় রে! এমন শক্তি থেকেও কাজে তেমন হ’ল না। বোস। এক বার বলুন যে, তিনি স্থির হয়ে সহরে থাকবেন, আমরা তঁর ফাষ্ট্য প্রাকৃটিস ক’রে দিচ্ছি।” বসুজ মহাশয় সে দিকে মন দিতেন না। তিনি মফঃসলে গিয়া কিছু অধিক উপাৰ্জন করিয়া আনিয়া বসিতেন, যেন ব্ৰাহ্মসমাজের কাজ করিবার সময় পান। এই তীর কাৰ্য্যের রীতি ছিল। কত বার ইচ্ছা করিয়াছেন যে, অনন্যকৰ্ম্ম হইয়া দেশের হিত সাধনে লাগেন, কেবল বৃহৎ পরিবারের পালন চিন্তাতে পারিয়া উঠিতেন না। এমন অকৃত্রিম বিনয়, এমন বিমল ঈশ্বরপ্রীতি, এমন অকপট স্বদেশানুরাগ, এমন স্বজনপ্ৰেম, এমন কৰ্ত্তব্যনিষ্ঠা, আমি মানুষে অল্পই দেখিয়াছি। বড় সৌভাগ্য, ভগবানের বড় কৃপা যে, এমন মানুষকে বন্ধু রূপে পাইয়াছিলাম। সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজ স্থাপিত হওয়ার পর কয়েক মাস ইহার কাৰ্য্যের ব্যবস্থা করিতে গেল। প্রথম নিয়মাবলী প্রণয়ন, সকল সমাজে তাহার পাণ্ডুলিপি প্রেরণ, সকলের মত সংগ্রহ ও তাহার বিচার, একটি মুদ্রাযন্ত্র স্থাপন, সমাজের পত্রিকা পুস্তকাদির মুদ্রণ ও প্রচার, ইত্যাদি কাৰ্য্যে আমাকে নিরন্তর ব্যস্ত থাকিতে হইল। সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের প্রথম প্রচারক দল।—এইরূপে কয়েক মাস অতীত হইলে অবশেষে সমাজের কমিটি ব্ৰাহ্মধৰ্ম্ম প্রচার কাৰ্য্যে মন দিবার সময় পাইলেন। চারি ব্যক্তিকে আপনাদের প্রধানপ্রচারক রূপে মনোনীত করিলেন। সে চারি ব্যক্তি এই,--(১ম)। পণ্ডিত বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, (২য়) পণ্ডিত রামকুমার বিদ্যারত্ন, (৩য়) বাৰু গণেশচন্দ্র ঘোষ, (৪র্থ)। আমি। । ইহার মধ্যে পণ্ডিত বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী সৰ্বসাধারণের নিকট