পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১২শ পরিঃ ܣܝܪ̈: সুপরিচিত। অগ্ৰেই বলিয়াছি, তিনি সংস্কৃত কলেজে। আমার সহাধ্যায়ী ছিলেন, এবং আমাকে উন্নতিশীল ব্ৰাহ্ম দলে আকৃষ্ট করিবার পক্ষে তিনি এক প্রধান কারণ ছিলেন। নরপুজার প্রতিবাদের পর কেশব বাবুর সহিত পুনর্মিলিত হইয়া তিনি আবার প্রচার কাৰ্য্যে রত হইয়াছিলেন । ১৮৭১৭২ সালে ভারত সংস্কার সভা ও তদধীনে দাতব্য বিভাগ ও বয়স্থ মহিলা বিদ্যালয় ও ভারত আশ্রম স্থাপিত হইলে, তিনি স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্য জ্ঞান না করিয়া বয়স্থ বিদ্যালয়ের পাঠন কাৰ্য্যে ও বেহালা নামক গ্রামের ম্যালেরিয়া প্ৰপীড়িত প্ৰজাপুঞ্জের মধ্যে দাতব্য ঔষধ বিতরণ কাৰ্য্যে প্রধান রূপে আপনাকে নিযুক্ত করেন। অতি প্ৰত্যুষে উঠিয়া স্নান ও উপাসনান্তে ঔষধাদি লইয়া ছয় সাত মাইল উত্তীর্ণ হইয়া বেহালা গ্রামে ঔষধাদি বিতরণ করিতে যাইতেন। সেখান হইতে দ্বিপ্রহর ১২টা কি ১টার সময় আসিয়া আহার করিতেন ; আহারান্তে ২টার পর বয়স্থ বিদ্যালয়ে পাঠন কাৰ্য্যে রত হইতেন। তৎপরে অনেক দিন দেখিতাম, রাত্রে মেয়েদের জন্য পুস্তক রচনাতে প্ৰবৃত্ত হইতেন । আমি বার বার সতর্ক করিতাম, তাহাতে কৰ্ণপাত করিতেন না। এরূপ শ্রম আর কত দিন সয় ? এক দিন বুকে এক প্রকার বেদন হইয়া গোসাইজী অচেতন হইয়া পড়িলেন। সেই বুকের ব্যথা থাকিয়া গেল। তাহা নিবারণের জন্য বহু মাত্রাতে মরফিয়া সেবন ভিন্ন উপায় রহিল না। এজন্য অতিরিক্ত মাত্রাতে মরফিয়া সেবন করা গোসাইজীর অভ্যস্ত হইয়া গেল ! সেই মরফিয়ার মাত্ৰা ক্রমে অসম্ভব রূপে বাড়িয়াছিল। ইহার পরে গোসাইজী বাঘআঁচড়া গ্রামকে তঁহার প্ৰধান কাৰ্য্যক্ষেত্ৰ করিয়া সেখানে অধিকাংশ সময় বাস করিতেন। বাঘআঁচড়া হইতেই তিনি কুচবিহার বিবাহের প্রতিবাদ করেন । তদনন্তর সাধারণ ব্ৰাহ্মসমাজের স্থাপনকৰ্ত্তাদিগের সহিত র্তাহার যোগ হয়। তিনি আমাদের প্রথম ও প্রধান প্রচারক হইলেন।