পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२१० শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১২শ পরিঃ নিয়োগের পূৰ্ব্বে টাকা দিবেন কি না, কাহার হাতে দিবেন, কত দিবেন, তাহা স্থির করিতে পারিতেছেন না । মহৰ্ষির সহিত সাক্ষাৎ । মহৰ্ষির দান।—এক দিন আমি মহর্ষির সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলাম। তিনি তখন তঁহার জোড়াসাকোস্থ ভবনেই আছেন। গিয়া দেখি, ভক্তিভাজন রাজনারায়ণ বসু মহাশয় বসিয়া আছেন। তিন জনে অনেক কথা আরম্ভ হইল। মহর্ষি রাজনারায়ণ বাবুকে ও আমাকে বড় ভালবাসিতেন। রাজনারায়ণ বাবুতে ও আমাতে মিলন, মহৰ্ষির নিকট যেন মণিকাঞ্চনের যোগ বোধ হইল ; তঁাহার হৃদয় দ্বার খুলিয়া প্রেমের উৎস আনন্দের উৎস উৎসারিত হইতে লাগিল ; তিন জনের অট্টহাস্ত্যে অত বড় বাড়ী কঁাপিয়া যাইতে লাগিল। ক্রমে নির্বারের সুস্নিগ্ধ বারির ন্যায়। মহৰ্ষির বাক্য স্রোতে হাফেজ আসিলেন ; নানক আসিলেন ; ঋষিরা আসিলেন ; উপনিষদ আসিলেন ; আমরা সকলে সেই রসে মগ্ন হইয়া গেলাম। দেখিতেছি, মহৰ্ষির কান দুটা লাল হইয়া যাইতেছে ; মহৰ্ষির মস্তকের কেশ মাঝে মাঝে খাড়া হইয়া উঠিতেছে। এমন সময় কথার একটু বিচ্ছেদ হইবামাত্র আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “আমাদের অর্থ সাহায্যের দরখাস্তের হ’ল কি ?” মহর্ষি হাসিয়া বলিলেন, “তোমাদের দরখাস্ত নথির সামিল আছে।” আমি হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “রায় বাহির হবে কবে ?” মহৰ্ষি। কিছু দিন পরে হবে। ইহার পরে আবার সদালাপের তরঙ্গ, হাসির গরুরা ও ভাবোঞ্ছাসের তরঙ্গ উঠিতে লাগিল। অবশেষে আমি উঠিতে চাহিলে মহর্ষি উঠিয়া আমার হাত ধরিলেন ; বলিলেন, “চল, কিছু না খেয়ে যেতে পাবে না।” এই বলিয়া আমার হাত ধরিয়া দক্ষিণের বারাণ্ডার কোণের এক ঘরে লইয়া গেলেন। গিয়া দেখি, টেবিলের উপরে নানাবিধ মিষ্টান্নপূর্ণ পাত্র আমার জন্য অপেক্ষা করিতেছে। মহর্ষি আমাকে এক চেয়ারে বসাইয়া,