পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


之á心 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৩শ পরিঃ আমি তৎক্ষণাৎ আসিয়া হিন্দু স্কুলে ভোলানাথ পাল মহাশয়কে, এলবাৰ্ট স্কুলে কৃষ্ণবিহারী সেনকে, ও ট্রেনিং ইনষ্টিটিউশনে কানাই বাবুকে পত্ৰ লিখিলাম, “এ দাঙ্গা বন্ধ করিতে হইতেছে।” তাহারা স্বীয় স্বীয় স্কুলে ক্লাসে সতর্ক করিয়া দিলেন ; দাঙ্গা বীজেই বিনষ্ট হইল, অন্ধুর হইতে পারিল না। ভোলানাথ বাবু এক দ্বারবান দিয়া তার স্কুলের সেই ছেলেকে আমার নিকট প্রেরণ করিলেন। লিখিয়া পাঠাইলেন যে, সে দশটার সময় সিটি স্কুলে গিয়াছিল বলিয়া স্বীকার করিতেছে না। আমি সে ছোকরাকে সত্য কথা বলাইবার জন্য অনেক বুঝাইলাম, কিছুতেই স্বীকার করিল। না। তৎপরে তৃতীয় শ্রেণী হইতে চারি পাঁচটি বালক ডাকাইয় তাহাকে দেখাইলাম। তাহারা তার মুখের উপর বলিয়া গেল যে সে দশটার সময় আমাদের স্কুলে আসিয়াছিল। আমি তখন তাহার কান ধরিয়া ঘরের কোণে দাড় করাইয়া দিলাম, এবং তাহাকে এক ক্লাস নামাইয়া দিবার জন্য ভোলানাথ বাবুকে এবং তাহার পিতার নাম জানিয়া লইয়া তার পিতাকে চিঠি লিখিতে প্ৰবৃত্ত হইলাম। তখন সে ভ্যা করিয়া কঁাদিয়া ফেলিল, এবং আমার পায়ে ধরিয়া সমুদয় কথা স্বীকার করিল। ইহার পর সে সহজেই নিস্কৃতি পাইল । ইহার পর চতুষ্পাশ্বের স্কুল মহলে আমার প্রতি ছেলেদের একটা ত্ৰাস জন্মিয় গেল। এই ত্ৰাস হইতে এক দিন এক কৌতুককর ঘটনা ঘটিল। এক দিন আমি বাড়ী যাইবার জন্য সিটি স্কুল হইতে বাহির হইয়াছি, দেখিলাম কয়েক জন বালক আমাকে দেখিয়াই গোলদিঘীর ভিতরকার গাছের ঝোপের আড়ালে গিয়া লুকাইল। তাহারা ওরূপ না লুকাইলে বোধ হয় আমি লক্ষ্যই করিতাম না। কিন্তু লুকাইবার চেষ্টা করাতেই আমার চক্ষে পড়িয়া গেল। আমি দিবীর ধারে গিয়া অঙ্গুলি সঙ্কেত দ্বারা তাহাদিগকে নিকটে ডাকিলাম। তাহারা ভয়ে জড়সড় হইয়া আমার নিকট আসিল ।