পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૨ শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৩শ পরিঃ হইতেছে। নবলরায়ের পরোপকার প্রবৃত্তির চিহ্ন স্বরূপ দেখিলাম, তিনি / মধ্যবৰ্ত্তী শ্রেণীর বালকদের জন্য একটি স্কুল স্থাপন করিয়াছেন। . তাহাতে র্তাহার উৎসাহী ব্ৰাহ্ম বন্ধুদিগকে শিক্ষক নিযুক্ত করিয়া সহরের ব্ৰাহ্ম দল বৃদ্ধি করিতেছেন। তদ্ভিন্ন প্রত্যেক রবিবার প্রাতে সমাজের উপাসনার পর স্থানীয় কারাগারে গিয়া কয়েদীদিগকে সমবেত করিয়া ধৰ্ম্মোপদেশ দিবার নিয়ম করিয়াছেন। স্থানীয় গবৰ্ণমেণ্টের নিকট এই অধিকার চাহিয়া লইয়াছেন। আমি দুই রবিবার তঁাহার সহিত জেলের এই মীটিঙে গিয়াছিলাম। দেখিলাম কয়েদীগণ দলে দলে আসিয়া মাটিতে বসিল । তিনি দাড়াইয়া সিন্ধী ভাষায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ করিয়া কিছু বলিতে আরম্ভ করিলেন। কি বলিলেন বুঝিতে পারিলাম না, কিন্তু দেখিলাম যে কয়েদীদের অনেকের চক্ষু দিয়া জলধারা বহিতেছে। অনেকে ‘উঃ” “আঃ” প্রভৃতি হৃদয়ের ভাবব্যঞ্জক শব্দ করিতেছে। পরে শুনিলাম, তঁহার এই সকল উপদেশের ফলস্বরূপ অনেক কয়েদীর হৃদয় পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছে। তাহার প্রমাণ স্বরূপ এক দিনের একটি ঘটনার কথা তিনি বলিলেন । এক বার তিনি রাজ কাৰ্য্যোপলক্ষে মফঃসলে গিয়া এক দিন বাড়ীতে ফিরিয়া আসিতেছিলেন। পথে বনের মধ্যে সন্ধ্যা হইয়া গেল। কোথায় রাত্রি যাপন করেন, সেই ভাবনায় তিনি অস্থির হইলেন। এমন সময় অদূরে একখানি কুঁড়ে ঘর দেখিতে পাইলেন। তদাভিমুখে অগ্রসর হইতে না হইতে এক জন মানুষ তাহা হইতে বাহির হইয়া তাহার অভিমুখে আসিল এবং বলিল, “আপনার কি স্মরণ হয়, আপনি অমুক মাসে জেলে বক্তৃতা করিতে গিয়া এক জন কয়েদীর সঙ্গে অনেক ক্ষণ কথা কহিয়াছিলেন ? আমি সেই মানুষ। আপনার উপদেশ আমাকে পাপ পথ হইতে ফিরাইয়াছে। আমি আর কোন খারাপ কাজ করি না। আমার ঘরে আসিয়া দেখুন, আমি স্ত্রী পুত্ৰ লইয়া বাস করিতেছি। তাহারা সকলেই আপনাকে ধন্যবাদ করে। আজ রাত্রে