পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&为8 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৩শ পরিঃ কলিকাতার বন্ধুদের টেলিগ্রাম পাইলাম যে, অবিলম্বে কলিকাতায় ফিরিতে"/ হইবে। আমি ও লালসিং জব্বলপুর হইয়া এলাহাবাদ যাত্ৰা করিলাম। এলাহাবাদ পৌছিলে। লালসিং টেলিগ্রাম পাইলেন যে, তঁহার জননী গুরুতর পীড়িত, তঁহাকে অবিলম্বে অমৃতসরে যাইতে হইবে। আমাদের বিচ্ছেদের দিন আসিলা। এত দিনের পর আমাদের ঝুলি পরীক্ষা করিয়া দেখি, আমার কলিকাতা পৌছিবার ও লালসিংহের অমৃতসর পৌছিবার মত’ টাকা হইয়া দুই টাকা বেশী:আছে। সে দুই টাকা আমার সঙ্গেই রহিল। আশ্চর্য্যের বিষয় এই, কলিকাতা পৌছিতে, কি কি কারণে স্মরণ নাই, সে দুই টাকাও গেল। কি আশ্চৰ্য্য ভগবানের কৃপা ! করুণাময় ঈশ্বর অনেক বার এইরূপে আমাকে দিয়া প্রচার কাৰ্য্য করাইয়াছেন। ধন্য র্তাহার করুণা ৷ রাণান্ডে মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ। বাঙ্গালী ও মহারাষ্ট্রীয় পদস্থ লোকের প্রভেদ। —এই প্রচার যাত্রা কালের কয়েকটি ঘটনা স্মরণ আছে। প্ৰথম, যেদিন স্বৰ্গীয় রাণাডে৷ মহাশয়ের সহিত প্ৰথম সাক্ষাৎ হয়, সেদিন একটা স্মরণীয় দিন। সেই দিন প্ৰাতে চন্দাবারকার আসিয়া আমাকে বলিলেন, “আমাদের বোম্বাই প্রেসিডেন্সির শিক্ষিত দলের নেতা মিঃ রাণাডে৷ মহাশয় গত রাত্রে তাহার কৰ্ম্ম স্থান হইতে বোম্বাই আসিয়াছেন। অমুক স্থানে আছেন, চলুন। তঁহার সহিত দেখা করাইয়া দিই।” আমি তৎক্ষণাৎ বাহির হইলাম। পথে ভাবিতে ভাবিতে চলিলাম যে, বোম্বাইয়ের শিক্ষিত দলের নেতা ও গবর্ণমেণ্টের উচ্চ কৰ্ম্মচারীর সহিত দেখা করিতেছি ; না জানি গিয়া কিরূপ দেখিব ! চন্দাবারকার পথে আমাকে তঁহার গুণকীৰ্ত্তি অনেক বলিতে লাগিলেন। আমি সম্রামে পূর্ণ হইয়া নির্দিষ্ট স্থানে পৌছিলাম। গিয়া দেখি, বাহিরের ঘরের মেজেতে। জাজিমের উপর একটি ভদ্রলোক বসিয়া আছেন। তঁহার গায়ে একটি সামান্য বেনিয়ান, মাথায় একটি নাইট ক্যাপ, যেরূপ ক্যাপী আমরা কলিকাতায় রাজপথের সামান্য লোককে পরিতে দেখিয়াছি।”