পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত Sct rifs. দাড়াইয়া সঙ্গের এক জন ব্ৰাহ্ম বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘ও কি ওৱে, পিতা ? এত মারিতেছে কেন ?” তিনি বলিলেন, “ও ব্যক্তি ওর পিতা , নয়, ওর কেহই নয় ; ওই ছেলেটি পিতৃমাতৃহীন। ওর মাথা রাখিবার স্থান নাই ; রাত্রে ভদ্রলোকের বাড়ীর দরজায় বারান্দায় পড়িয়া ঘুমায়। পেটের ভাত জোটে না ; লোকের বাড়ী ভিক্ষা করিয়া খায়। ঐ মানুষটা ঐ ছেলেটার সঙ্গে এই বন্দোবস্ত করিয়াছিল যে, ছেলেটা সহরের গৃহস্থদের দরজা হইতে কয়লা কুড়াইয়া আনিয়া দিবে। মানুষটা দু, চার দশ দিন অন্তর হয়ত একটা পয়সা দিবে। মার খাবার ভয়ে ছেলেটা কয়লা আনে। আজ কয়লা আনে নাই বলিয়া মারা খাইতেছে।” অনুসন্ধানে জানিলাম, কয়েক বৎসর পূর্বে মান্দ্ৰাজ প্রদেশে যে দুৰ্ভিক্ষ হইয়াছিল, তখন বহুসংখ্যক শিশু পিতৃমাতৃহীন হয়। ইহাদের অনেকগুলিকে খ্ৰীষ্টিয়ান মিশনারীগণ সংগ্ৰহ করিয়া আপনাদের অনাথাশ্ৰমে আশ্ৰয় দিয়াছেন ; কিন্তু বহুসংখ্যক শিশু নিরাশ্রয় অবস্থাতে বাস করিতেছে। আমি অনেক দিন প্রাতে এইরূপ বালকবালিকাদিগকে ভদ্রলোকের দ্বারের সম্মুখস্থ বারান্দাতে পড়িয়া ঘুমাইতে দেখিয়াছি। এই দৃশ্য দেখিয়া, ও এই বিবরণ শুনিয়া আমার মনটা বড় খারাপ হইয়া গেল। সেই খারাপ, মন লইয়া বাসায় ফিরিলাম । d পর দিন প্ৰাতে ব্ৰাহ্ম বন্ধুগণ দেখা করিতে আসিলে তঁহাদিগকে বলিলাম, “হয় এইরূপ পিতৃমাতৃহীন বালকবালিকার রক্ষা ও শিক্ষার জন্য কিছু করুন, নতুবা সমাজ মন্দিরে বড় বড় কথা বলুবার ফল কি ?” আমার দুঃখ দেখিয়া এক জন ব্ৰাহ্ম বন্ধু সেই প্ৰাতেই রাস্ত হইতে এইরূপ একটি বালক ডাকিয়া আমার নিকট আনিলেন। সে প্ৰথমে বাড়ীতে প্ৰবেশ করিতে চায় না । “ ওরূপ জাতিভ্ৰষ্ট বালকদের ভদ্রলোকদের বাড়ীতে প্ৰবেশ করিবার অধিকার নাই, এই সংস্কার থাকাতে সে ইতস্ততঃ করিতে লাগিল। অনেক বলাতে বাড়ীতে প্ৰবেশ করিয়া