পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ծ88 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৬শ পরিঃ পাইয়া খাসিয়াঙ্গে গিয়া উপস্থিত হইলাম। সেখানে একটি বাড়ী ভাড়া করিয়া সাধন ভজনে বসিলাম । একটি চাকর রাখিলাম ; সে বাসন ম্যাজিত, ঘর ঝাট দিত, ও অপরাপর কাজ করিত। নবদ্বীপ বাবু বাজার করিবার ভাল লইলেন ; শশী বিছানা তোলা ও ডাক ঘরে যাওয়ার ভার লাইলেন ; বিদ্যারত্ন ভায় পাওয়া ও লোকের সঙ্গে দেখা করার ভার লাইলেন ; আমি রন্ধনের ভার লইলাম । আমরা প্রত্যুমে উঠিয়া সমবেত উপাসনা করিতাম, তৎপরে কিঞ্চিৎ প্রাতরাশ ও উপাসনা করিয়া যে যে-দিকে ইচ্ছা চলিয়া যাইতাম । এইরূপে দুই ঘণ্টা কাল প্ৰত্যেকে একান্তে সাপন করিতাম। সেই সময়টা প্ৰত্যেকে নিজ নিজ অভীষ্ট প্ৰণালীতে চিন্তা ধান উপাসনাদি করিতাম । আমাকে রন্ধনের জন্য সকলের অগ্ৰে ফিরিতে হঠাত । আমি বাড়ীর অনতিদূরে পাহাড়ের উপরে নির্বারের পার্শ্বে একখানি প্রস্তরের উপরে আসন নিদিষ্ট করিয়া লইয়াছিলাম। সেখানে প্ৰতি দিন বসিয়া চিন্তা ধ্যান ও উপাসনা করিতাম। এক মাস এইরূপ সাধন করিয়া প্ৰভূত উপকার লাভ করিয়াছিলাম। এমন কি, এখনও দাজিলিং যাইবার সময় সেই পাথর খানির উপর যখনি দৃষ্টি পড়ে, তখনি মনে উপাসনার ভাব উপস্থিত হয়। সেই সাধনের ফল চিরদিন রহিয়াছে। এখানে বাস কালে ব্ৰাহ্ম বন্ধুগণ অনেকে দাৰ্জিলিং, যাইতে আসিতে আমাদের জন্য খাদ্যদ্রব্য অর্থাদি দিয়া যাইতেন । এইরূপে প্ৰায় এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, আমরা এক দিন উপাসনান্তে স্থির করিলাম যে নামিয়া যাইব । তখন কোষাধ্যক্ষ মহাশয়ের অর্থের ঝুলি পরীক্ষা করিয়া দেখা গেল যে, স্ব স্ব গন্তব্য স্থানে ফিরিতে যে ব্যয় হইবে তাহার এগারটি টাকার অপ্রতুল ; ভূত্যকে বেতন দিতে হইবে, এবং বাড়ী ভাড়া দিতে হইবে, ইত্যাদি । আমি প্ৰস্তাব করিলাম, ভিক্ষা করা হইবে না ; ভূত্যকে আমার