পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


v989 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচরিত [ ১৬শ পরিঃ কি আশ্চৰ্য্য। তখন আমরা দশ টাকার জন্য ভাবিয়া আকুল হইতেছিলাম, ঠিক সেই দশটা টাকাই আসিয়া উপস্থিত । আমরা তখনই দেনাপত্ৰ শোধ করিয়া দাজ্জিলিং মেইলে শিলিগুড়ি নাম স্থির করিলাম। তদনুসারে পর দিন থার্ড ক্লাসের টিকিট লইয়া ষ্টেশনে দাড়াইয়া আছি, দেখি ড্যাল সাহেব আসিয়া উপস্থিত । তিনি আমাকে দেখিয়া বলিলেন, “বাঃ, এই তুমি লিখিলে, পয়সা নাই, হঁাটিয়া শিলিগুড়ি নামিবে, আবার এ কি ?” আমি হাসিয়া বলিলাম, “একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আমাকে টানিয়া সেকেণ্ড ক্লাসে তুলিয়া লইলেন, আমার সেকেণ্ড ক্লাসের অতিরিক্ত ভাড়া দিলেন, এবং শিলিগুড়ি পৰ্য্যন্ত সমস্ত রাস্তা তার মনে উদ্ভাবিত একটা নূতন কাজের পরামর্শ বিবৃত করিতে করিতে আসিলেন। প্ৰস্তাবিত কাজটার বিষয়ে যত দূর স্মরণ আছে, তাত এই। তিনি প্ৰস্তাব করিলেন, “এস আমরা একমাত্র সত্যস্বরূপ ঈশ্বরে বিশ্বাসী ব্যক্তিদিগকে লইয়া একটি সভা গঠন করি। তাহারা খ্ৰীষ্টান বা ব্ৰাহ্ম হউক আর না হউক, কেবল নাস্তিক না হইলেই তইল। এই দলকে লইয়া এক সাৰ্ব্বভৌমিক ধৰ্ম্ম প্রচার করিবার চেষ্টা করি, ইত্যাদি।” এই মূল ভাবের অনেক শাখা প্রশাখা ছিল, সকল মনে নাই। কলিকাতায় ফিরিয়াই এই কাৰ্য্যের সূচনার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু হায়, ড্যাল সাহেব কলিকাতায় পৌছিবার অল্প দিন পরেই গুরুতর কুক্ষি রোগে আক্রান্ত হইয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্ৰাণত্যাগ করিলেন । হিমাদ্রি কুসুম।—এই হিমালয় বাস কালে আমি ‘হিমাদ্রি কুসুম” নামক এক পদ্য গ্রন্থের কিয়দংশ লিখি, তাহা পরে বন্ধিত আকারে মুদ্রিত হয়। আসামে প্রচার যাত্ৰা ।-খার্সিয়াৎ হইতে ফিরিবার কয়েক দিন পরে, অর্থাৎ ১৮৮৬ সালের জুলাই মাসে, আমি ধৰ্ম্ম প্রচারার্থ আসাম প্রদেশে