পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


08 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৬শ পরিঃ হউক, হাতী পথের মধ্যে বড় রাগ করিল ; এবং আমাদিগকে লইয়া পথ ছাড়িয়া এক পুষ্করিণীর মধ্যে নামিল। আমাদের পা জলে ডোবে আর কি ! হাসিব, কি ত্ৰস্ত হইব ও লাফাইয়া পড়িব, স্থির করিতে পারি না । শেষে মাহুত অনেক সাধ্য সাধনা করিয়া মিষ্ট কথা বলিয়া হাতীকে রাস্তাতে তুলিয়া আনিল । আমরা যথাসময়ে গন্তব্য স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলাম । আসিবার সময় আর এক বিপদ উপস্থিত। মধ্যে কয়েক দিন প্ৰবল বৃষ্টি হইয়া চারি দিক ভাসিয়া গেল। সংবাদ পাওয়া গেল যে ব্ৰহ্মপুত্ৰ ভাসিয়া গিয়াছে। কিন্তু কি করা যায়, আমাদের শীঘ্ৰ আসা আবশ্যক। আমরা আমাদের যাত্রার বন্দোবস্তু করিয়া দিবার জন্য সেখানকার বন্ধুদিগকে অস্থির করিয়া তুলিলাম। র্তাহারা সেইরূপ ব্যবস্থা করিলেন। যাত্রার দিন প্রাতে দেখিলাম, একটি হাতী আসিল । মনে মনে ভাবিলাম, এটা বোধ হয় শাস্তশিষ্ট, পুষ্করিণীতে নামিবে না। কিন্তু আমরা আহারাদি করিয়া যাত্রার জন্য প্ৰস্তুত হইলে দেখা গেল যে, হাতী সেখানে নাই । বনের ভিতর কোথায় প্রবেশ করিয়াছে, খুঁজিয়া পাওয়া যাইতেছে না। অবশেষে সেখানকার উকিল বন্ধুদিগের মধ্যে এক জন আমাদিগকে তঁাহার গাড়িখানা দিলেন। যথাসময়ে গাড়িতে উঠিয়া কিয়দার গিয়া দেখি যে কাদা ঠেলিয়া যাওয়া ভার। কাদাতে গাড়ির চাকা বসিয়া যাইতে লাগিল । অবশেষে দ্বারি বাবু নামিয়া গাড়ি ঠেলিতে ও টানিতে লাগিলেন ; ক্রমে গাড়িও ছাড়িয়া দিতে হইল। তখন আমরা মুটের মাথায় জিনিসপত্ৰ দিয়া ৮ মাইল হঁটিয়া ষ্টীমার ঘাট পৰ্য্যন্ত যাওয়া স্থির করিলাম। কিন্তু নগরের বাহিরে মাঠের ধারে গিয়া দেখিলাম, একখানা শাল তি অর্থাৎ শাল কাঠের ডোঙ্গা আছে । চারি দিক জলপ্লাবিত হওয়াতে সেখানা নগরের পার্শ্বে আসিয়াছে। তাহার সঙ্গে ভাড়া স্থির , করিয়া দুই তিন জনে তাহাতে উঠিলাম। দুই দশ হাত যাইতে না যাইতে দেখা গৈল যে শাল তিখানার