পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-t আসামে প্রচার যাত্ৰা \98 স্থানে স্থানে গৰ্ত্ত আছে, কাদা দিয়া তাহা বুজাইর। রাগিয়াছে। আমাদের ভারে কাদাগুলি ঠেলিয়া শালতির মধ্যে জল উঠিতে লাগিল। তখন আমরা নামিয়া পড়িলাম ; এবং এক হাটু জল ঠেলিয়া পদব্ৰজেই ষ্টীমার ঘাটের অভিমুখে চলিলাম। সে এক কৌতুকের ব্যাপার। গাঙ্গুলী ভায়া আমার আগে আগে বিশ পচিশ হাত দূরে চলিয়াছেন। তাহার উৎসাহ দেখে কে ! আমি অত চলিয়া উঠিতে পারিতেছি না, কাজেই একটু পিছাইয়া পড়িয়াছি। এইরূপে দুই জনে চলিয়াছি, হঠাৎ দ্বারি বাবু ডুবিয়া গেলেন । তখন ভারবাহক মুটের মুখে শুনিলাম, সেখানে একটা খাল ও তদুপরি এক পুল ছিল, ব্ৰহ্মপুত্রের জল বৃদ্ধি হইয়া খাল ভাসিয়া পুল বোধ হয় ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। আমি ব্যস্তসমস্ত হইয়া অগ্রসর হইয়া দেখি, দ্বারি বাবু কিছু দূরে মাথা জাগাইয়া এক বার উঠিয়া, আবার “আমি গোলাম” বলিয়া ডুবিলেন। সে বার আমি নিরাশ হইলাম, ভাবিলাম খালের স্রোতে তাহাকে ভাসাইয়া লইয়া গেল। সৌভাগ্য ক্ৰমে দেখি কিয়দ্দূ রে তিনি আবার মাথা জাগাইয়া হাত দিয়া যেন কি একটা ধরিলেন । পরে জানিলাম, খালের পাশ্বস্থ কোনও গুলোর শাখা ধরিয়াছেন। খালের অপর পাশ্বে কিয়দ রে একখানা শালতি দাড়াইয়া ছিল, আমি তখন উচ্চ স্বরে তাহাকে ডাকিতে লাগিলাম, “‘বাবুকে বাচা, বাবুকে বাচা, বক্‌সিস করব।” আমার চেচাচেচিতে তারা শাল তিখানা লইয়া দ্বারি বাবুকে গিয়া তুলিল। তঁহার সামলাইতে অনেক ক্ষণ গেল। তৎপরে আমরা দুই জনে চলিতে লাগিলাম। বেলা অবসান হইয়া আসিতে লাগিল ; তৃষ্ণায় দুই জনের ছাতি ফাটিয়া যাইতেছে ; কাদা জল পান করিতে পারি না। কি করি, কি করি, ভাবিতে ভাবিতে দেখিতে পাইলাম, কিয়দূরে একটা উচ্চ ভূমির উপরে একটা বাঙ্গলা ঘর দাড়াইয়া আছে। মনে ভাবিলাম, সেখানে নিশ্চয়ই মানুষ আছে, তারা জল দিতে পারিবে। উঠিয়া দেখি, সেটা গবৰ্ণমেণ্টের