পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ASOVV শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত - [ ১৭শ পরিঃ আসিয়াছি। তখনও তার স্ত্রীর সহিত কথা কহিব ও কিছু দান কুরিব, এই ভাবটা প্ৰবল আছে। আমি বসিয়া আছি, কিয়ৎক্ষণ পরে দেখি, তিন চারি জন্য সবলকায় পুরুষ আসিয়া দ্বারে উকি মারিতেছে ও পরস্পন্ন কি পরামর্শ করিতেছে। তখন আমার সেই সংবাদপত্রের কথাটা স্মরণ হইল। আমি আসন ত্যাগ করিয়া উঠিলাম ও দ্রুতগতিতে বাহিরের রাস্তায় যাইবার জন্য অগ্রসর হইলাম। তাতারা দ্বারে আমার গতিরোপ করিবার চেষ্টা করিল। তাহারা আমার হাত ধরিতে না ধরিতে আমি দৌডিয়া রাস্তায় গিয়া দাড়াইলাম। তখন দেখি সেই লোকটা রাস্তার অপর পাশ্ব হইতে আমাকে দেখিয়া ছুটিয়া আমার দিকে আসিতেছে। সে চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, “দাঁড়ান, দাঁড়ান, আমার স্ত্রী আসছে।” আমি বলিলাম, “না, তোমার স্ত্রীর জন্য আর দাড়াইব না, আমি চলিলাম।” সে আমার সঙ্গ লইল । আমি বলিলাম, “তোমাকে যখন কিছু দিব বলেছি, তখন দিচ্ছি ; তুমি আমার সঙ্গ ছেড়ে যাও।” এই বলিয়া তাকে কিছু পয়সা দিয়া কুমারী কলেটের বাড়ী গেলাম। গিয়া তীব্র বকুনি খাইয়া মরি। তিনি বলিলেন, “তুমি কাগজে পড়েছি, লোক মুখে শুনেছি, এই দিকে খারাপ লোকের বাস ; তবু তোমার চেতনা হয় নাই, এ বড় আশ্চৰ্য্য কথা ! আর যদি প্রাণভয়ে পালিয়ে এলে, তবে পয়সী। দিলে কেন ? দয়ার কি স্থান অস্থান নাই ?” আমি আর কি বলিব ! মাথা পাতিয়া তঁর বকনি খাইলাম। নারীর সন্মান ।—যাহা হউক, ভাল বিষয়ও অনেক দেখিতে লাগিলাম। তাহার কতকগুলি মনে আছে এবং উল্লেখ করিতেছি । এক দিন কোথায় যাইব বলিয়া টামে বসিয়াছি। গাড়িটা প্ৰায় যাত্রীতে পরিপূর্ণ। আরোহীদিগের মধ্যে এক জন এমনই মাতাল যে ঠিক হইয়া বসিতে পারিতেছে না। এমন সময় দেখা গেল, দুই জন ভদ্র স্ত্রীলোক গাড়িতে উঠিতে আসিতেছেন। সে দেশের নিয়ম এই যে গাড়িতে জায়গা