পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


O9v শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৭শ পরিা: তঁহার নিকট ভিক্ষা চাহিল। তাহাকে দেখিয়া ও তাহার দুঃখের বিরুদ্রণ শুনিয়া গর্ডনের দয়া হইল। তিনি তাহাকে প্রচুর রূপে দান করিলেন, যেন সে ত্বরায় তাহার বর্ণিত কষ্ট হইতে উদ্ধার পাইতে পারে। দুই দিন পরে গর্ডন শুনিলেন যে, সেই ব্যক্তি পাঁচ ছয় মাইল দূরবত্তী অপর কোনও স্থানে আর এক গল্প বলিয়া ভিক্ষা করিতেছে । ইহাতে তাহার এত ক্ৰোধ হইল যে তিনি চাবুক হাতে পাঁচ ছয় মাইল হাটিয়া তঁহাকে মারিতে গেলেন। সেখানে গিয়া তাহাকে খুজিয়া বাহির করিয়া প্ৰহার করিলেন, অথচ নিজে যে টাকাগুলি দিয়াছিলেন, তাহ ফেরত লাইতে মনে থাকিল না। এই ব্যাপারে গর্ডন ব্রিটিশ জাতীয় চরিত্রের লক্ষণই প্ৰকাশ করিয়াছিলেন । কৰ্ত্তব্যজ্ঞান। —সাধারণ প্রজাদের মোটামুটি সত্যপ্রিয়তার ও কৰ্ত্তব্যপরায়ণতার কয়েকটি দৃষ্টান্ত স্মরণ আছে। এক বার মিস ম্যানিং আমাকে ন্যাশনাল ইণ্ডিয়ান এসোসিয়েশনের এক পাটিতে নিমন্ত্রণ করিলেন। আমি যাইব বলিয়া প্ৰস্তুত হইতেছি, আমার বাড়ীওয়ালী বলিলেন, “তোমার প্যাণ্টালুন পার্টিতে যাইবার উপযুক্ত নয়, তুমি একটা নূতন কোট ও নূতন প্যাণ্টালুন করাইয়া লও।” আমি। আর সাত দিন পরে পাট, এর মধ্যে কি প্যাণ্টালুন ও কোট করা যাইবে ? বাড়ীওয়ালী। রসো, আমি একটা দরজীকে ডাকাছি, সে বোধ হয়। ক’রে দিতে পারবে । যথাসময়ে এক জন দরজী আসিল ; সে আমার মাপা লইয়া গেল, এবং যথাসময়ে জিনিস দুটা দিবে বলিয়া গেল। দুদিন পরে তার স্ত্রী কাটা কাপড়গুলা লইয়া উপস্থিত ; বলিল, “আপনার কাজের ভার লওয়ার পর, আমার স্বামীর স্কটল্যাণ্ড হ’তে একটা বড় কাজের ডাক এসেছে। অনেক দিন হ’তে এই ডাকের কথা বলছিল, এখন তাকে যেতেই হবে।