পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


as শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ১৯শ পরিঃ ভোজনের সময় আমার পাৰ্থে ভোজনে বসিতেন। আমি ইংৰ্গাজ কবি শেলি ও ওয়ার্ডসওয়ার্থের ভক্ত, ইহা দেখিয়া তিনি আমাকে শেলির অনেক কবিতা মুখে মুখে আবৃত্তি করিয়া শুনাইতেন ; এবং শেলির প্রতিভার প্রশংসা করিতেন। আমি এক দিন এডুইন আর্ণন্ডের লিখিত Indian Idylus ( ইণ্ডিয়ান আইডিলস) নামক কবিতা পুস্তক কিনিয়া আনিয়া মেয়েটিকে উপহার দিলাম। বলিলাম, “এই কবিতাগুলি তুমি পড়; পরে তোমার মুখে শুনিব, আমাদের দেশের প্রাচীন কবিতা তোমার কেমন লাগিল।” ঐ গ্রন্থে রামায়ণ মহাভারত হইতে সাবিত্রী চরিত প্ৰভৃতি অনেক উৎকৃষ্ট উৎকৃষ্ট বিষয় সন্নিবিষ্ট আছে। মেয়েটি পুস্তকখানি পাইয়াই সেই রাত্রে প্রায় ১টা ২টা পৰ্য্যন্ত পড়িল। তৎপর দিন প্ৰাতে আহারে বসিয়া আমাকে বলিল, “ও মিষ্টার শাস্ত্রী, তোমাদের সাবিত্রীর ছবি কি সুন্দর ! কি সুন্দর! কত দিন পূৰ্ব্বে এ ছবি আঁকা হয়েছে ?” আমি হাসিয়া বলিলাম, “যীশু জন্মাবার দুই চারি শত বৎসর পূর্বে কি পরে, ঠিক বলিতে পারি না।” তখন মেয়েট বলিল, “যে জাতি এত দিন পূর্বে এই সৌন্দৰ্য্য সৃষ্টি করেছে, সে জাতি ত সামান্য डांडि न ।।” ১৮ ইংলণ্ডে বাস কালে আমি ব্রাহ্মসমাজের একখানি ইতিবৃত্ত লিখিতে প্ৰবৃত্ত হইয়াছিলাম। আমি যাহা লিখিতাম, তাহা কুমারী কলেটকে পড়িয়া শুনাইতাম। ব্ৰাহ্মসমাজের ইতিবৃত্ত বিষয়ে তঁহার মত।” অভিজ্ঞ ব্যক্তি আতি অল্পই ছিল। তিনি যাহা সংশোধন করিবার উপযুক্ত মনে করিতেন, তাহ সংশোধন করিয়া লওয়া হইত। তৎপরে আমার পুস্তক কপি করে কে, এই প্রশ্ন উঠিলে, কুমারী কলেট বলিলেন, “আমি তোমাকে একটি মেয়ে দিচ্ছি, সে তোমার লেখা কপি ক’রে দেবে ; তাকে প্রত্যেক এক শত শব্দের জন্য এক পেনি ক’রে দিও।” এই বলিয়া সেই মেয়েটির ইতিবৃত্ত আমাকে কিছু বলিলেন। তাহার