পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৮৯,৯০] শিক্ষা প্রণালীর সংস্কার সম্বন্ধে বহু কাল পূর্বের চিন্তা ৪৩৫ বালিকা শিক্ষালয় স্থাপন। অগ্ৰেই বলিয়াছি যে, আমি ইংলেণ্ডে বাস কালে কিণ্ডারগাটেন স্কুল দেখিয়াছিলাম, এবং শিক্ষা বিষয়ক কতকগুলি গ্ৰন্থও কিনিয়া আনিয়াছিলাম। সেইগুলি পাঠ করিয়া শিক্ষা সম্বন্ধে কতকগুলি নূতন চিন্তা আমার মনে উদয় হয়। ব্ৰাহ্ম বালিকা শিক্ষালয় স্থাপন তাহারই ফল । শিক্ষা প্ৰণালীর সংস্কার সম্বন্ধে বহু কাল পূর্বের চিন্তা ও অভিজ্ঞতা —এ জাতীয় চিন্তা বহু দিন হইতেই আমার মনে ছিল। আমি যখন বি এ ক্লাসে পড়ি, তখন একটি বিশেষ ঘটনাতে শিক্ষা সম্বন্ধীয় সূতন চিন্তা আমার মনে প্রবেশ করে। সে ঘটনাটি এই। এক বার গ্রীষ্মের আন্তটিতে বাড়ীতে গেলে বাবা আমাকে প্ৰতিনিধি দিয়া তাহার শিক্ষকতা কাৰ্য্য হইতে কিছু দিনের জন্য অবসর গ্রহণ করেন। এক দিন আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াইতেছি, এমন সময় সৰ্বনিম্ন শ্রেণীর পণ্ডিত মহাশয় একটি চারি কি পাঁচ বৎসরের বালককে লইয়া ঐ দ্বিতীয় শ্রেণীতে আমার নিকট উপস্থিত হইলেন । আসিয়া বলিলেন, “মহাশয়, এই ছেলেটিকে “পড়’ বলিলেই কঁদে ; কি করি ?” আর বাস্তবিক দেখিলাম, ছেলেটির দুই চক্ষের দুইটি অঞধারা পড়িয়া পেটের উপর দিয়া বহিয়া গিয়াছে, তার চিহ্ন রহিয়াছে। আমার বড় আশ্চৰ্য্য বোধ হইল ; বলিলাম, “পড় বললেই কঁদে ? আচ্ছা, ওকে আমার নিকট দিয়ে যান, আমি দেখি।” তিনি ছেলেটিকে আমার নিকট দিয়া গেলেন। আমি তাহাকে বলিলাম, “তুমি আমার হাত ধ’রে আমার সঙ্গে বেড়াও তাঁ।” সে আমার হাত ধরিয়া বেড়াইতে লাগিল। আমার যখন মনে হইল যে বেড়াইতে বেড়াইতে সে ভয়-ভাঙ্গ হইয়াছে, তখন তাহাকে তুলিয়া বেঞ্চের উপর বসাইলাম। বসাইয়া নিজের অঙ্গুলি দিয়া তার পেট টিপিতে লাগিলাম ; সে হাসিতে লাগিল। . আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “বল ত, কি দিয়ে ভাত খেয়েছ ?” তখন সে ভাত ডাল চড়া চড়ি