পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SvRS-a ov.) সাধনাশ্রম . . . 88ዓ প্রয়োজন । তদ্ভিন্ন ব্ৰাহ্মসমাrজর শক্তি জাগিণে না । বিশ্বাসী ও বৈরাগ্য ভাবাপন্ন মানুষই ধৰ্ম্মসমাজের বল। এরূপ মানুষ প্রস্তুত না হইলে ধৰ্ম্মসমাজের শক্তি জাগে না । এই ধারণা মনকে এমন করিয়া ধরিয়া বসিল যে, দিন রাত্ৰি চিন্তাকে অধিকার করিতে লাগিল। অবশেষে ১৮৯২ সালের মাঘোৎসবের সময় মনে সঙ্কল্প জাগিল যে, এরূপ একটি সাধক মণ্ডলী প্ৰস্তুত করিতে হইলে । সেই বিষয়ে প্রার্থনা করিতে লাগিলাম। অবশেষে হসন্দয়ে সেইরূপ প্রেরণা আসিল । ঐ বৎসর আমার জন্মদিনের পূৰ্ব্বে ( অর্থাৎ ৩১শে জানুয়ারীর পূর্বে) সেই সঙ্কল্প কাৰ্য্যে পরিণত করিবার জন্য প্ৰস্তুত হইলাম। প্ৰস্তাবিত আশ্রমের উদ্দেশ্য ও ভাব এক খানি কাগজে লিখিয়া বন্ধুবর আনন্দমোহন বসুকে দেখাইলাম । তিনি হৃদয়ের সহিত উৎসাহ দিলেন । তৎপরে ৩১শে জানুয়ারী আমার জন্মদিন হইয়া গেল । ১লা ফেব্রুয়ারী ১৮৯২, ৪৫নং বেনিয়াটোল । লেনের সিটি স্কুল বাড়ীর একটি ঘর চাহিয়া লইয়া কতিপয় বন্ধুকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া উপাসনা পূৰ্ব্বক আশ্রম স্থাপন করিলাম ; সেই দিন যাহারা উপস্থিত ছিলেন, তন্মধ্যে ময়মনসিংহের শ্ৰীযুক্ত গুরুদাস চক্ৰবৰ্ত্তী এক জন। তিনি ঐ কাগজ পড়িয়া অতিশয় আন্দোলিত হইলেন, এবং আপনাকে ঐ কাৰ্য্যের জন্য দিবার নিমিত্ত বাগ্র হইয়া উঠিলেন। তিনি তখন ময়মনসিংহ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ছুটি লইয়া কলিকাতায় আসিয়াছিলেন। সুতরাং, তাহাকে তখন বিদায় দেওয়া গেল। কিন্তু তিনি গিয়া বার বার পত্ৰ লিখিতে লাগিলেন। তঁহার কিছু ঋণ ছিল। অবশেষে সেই ঋণ শোধ করিবার জন্য তঁহাকে টাকা দিয়া, তঁহাকে আসিতে বলিলাম। জগদীশ্বর আশ্চৰ্য্য উপায়ে আশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে লাগিলেন। আমি একটি ছেলের হাতে ভিক্ষার ঝুলি পাঠাইতাম।