পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


89. শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [পৰি বাকি রাখিলেন। তৎক্ষণাৎ সেই কোটা মাছ শুদ্ধ চুপড়ীি সেই গৃহস্তের বাড়ী পাঠাইলেন ; তৎপর মাছ কিনিবার জন্য বাজারে গেলেন। আমরা ইহা দেখিলাম। ইহার পরে কি আর নাকী সুরে “দেখ, শিশুগণ চুরি করা বড় পাপ” এরূপ উপদেশ আবশ্যক হয় ? আর একটি ঘটনা আমার মনে দৃঢ়নিবদ্ধ হইয়াছিল, এজন্য মনে আছে। বাবা তখন কলিকাতায় বাঙ্গলা পাঠশালাতে পণ্ডিতী করেন। তিনি আমাকে লইয়া গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ীতে গিয়াছেন। সে সময়ে দেশে দুৰ্ভিক্ষ হইয়া চারি দিকের গরীব লোক বড় কষ্ট পাইতেছে। তাহাদের সাহায্যের জন্য গবৰ্ণমেণ্ট একটা রিলীফ কমিটি করিয়াছেন। বাবার প্রতি ঐ কমিটির সভ্যগণের এমনি শ্ৰদ্ধা যে, তিনি যাহাকে সাহায্যের উপযুক্ত বলেন, তাহাকেই তঁহার সাহায্য দেন। ইহার কারণও ছিল। কাহাকেও সাটিফিকেট দিতে হইলে, বাবা তাহার গ্রামে গিয়া তাহার উনান পৰ্য্যন্ত না দেখিয়া আসিয়া তাহাকে সাহায্যের উপযুক্ত বলিতেন না। আমাদের কলিকাতা যাত্ৰা করিবার সময়-সময় বাবা এক দিন শুনিলেন যে, আমাদের গ্রাম হইতে তিন চারি মাইল দূরে “কোনও চাষা লোক সপরিবারে অনাহারে আছে। শুনিয়া নিজের গোলা হইতে দুই পালি চাউল কাপড়ে বাধিয়া হঁটিয়া তাহাদিগকে দিতে গেলেন। গিয়া তাহাদিগকে বলিয়া আসিলেন, ‘পরশু হাটবারে তোমরা আমার কাছে যেও, আমি সঙ্গে ক’রে তোমাদিগকে রিলীফ কমিটির বাবুদের কাছে নিয়ে সাহায্য পাবার বন্দোবস্ত ক’রে দেব।” তখন তঁহার মনে ছিল না যে তৎপর দিনেই আমাদিগকে কলিকাতা যাত্রা করিতে হইবে, এবং সেই হাটবারের দিনই তঁহাকে স্কুলের শিক্ষকতা করিবার জন্য কলিকাতা উপস্থিত হইতে হইবে এবং অনুপস্থিত থাকিলে ছুটির দুই মাসের বেতন কাটা যাইবে। তখন এইরূপই निन्न ष्वि ।