পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


f পিতার অধৰ্ম্ম বিদ্বেষ 'g৬৩ ৷৷ তৎপর দিন যথাসময়ে শালতি ভাড়া করিয়া দুই জনে কলিকাতার অভিমুখে যাত্ৰা করিয়াছি ; আমাদের গ্রাম হইতে প্ৰায় তিন চারি মাইল পথ আসিয়াছি ; আমি শালতির মধ্যে বসিয়া চারি দিকের মাঠ ঘাট গাছপালা দেখিতেছি, বাবা বাহিরে বসিয়া তামাক খাইতেছেন ; হঠাৎ বাবা শালতির ডালিতে আঘাত করিয়া বলিয়া উঠিলেন, “ওই যাঃ, বড় ভুল হ’য়েছে। ওরে থাম থাম, ফিরে যেতে হবে।” শালতির চালকগণ জিজ্ঞাসা করিল, “সে কি মশাই ? এত দূর এসে ফিরে যাবেন ?” বাবা। হঁয়, ফিরে যেতে হবে ; একটা বড় ভুল হয়েছে। তোমরা ভেব না ; তোমাদের যা দেব বলেছি, তা দেব। তোমাদের অপরাধ কি ? আমি ভাড়া না করলে তোমরা অন্য ভাড়াটে পেতে । আমি। বাবা, আপনাকে কাল স্কুলে ত উপস্থিত হ’তেই হবে, তা না হ’লে দু'মাসের মাইনে কাটা যাবে। বাবা । তা কি হবে ? মহেশ কাওরা-র অনাহারে সপরিবারে মারা যায়। আমি হাটবারে তাদিগে আসতে বলেছি । সঙ্গে ক’রে নিয়ে রিলীফ কমিটির কাছ থেকে তাদের সাহায্য পাবার বন্দোবস্ত ক’রে দিতে হবে। আমি গরীবদের কাছে কথা দিয়েছি, ভুলে গিয়েছিলাম ; এখন মনে হয়েছে ; তা ভেঙ্গে যেতে পারি না । আমরা আবার ঘরে ফিরিয়া আসিলাম। বাবাকে পুরা শালতির ভাড়া দিতে হইল ; স্কুলের বেতন কাটা ত পরে রহিল। সৌভাগ্য ক্ৰমে সে যাত্রা বাবার দু'মাসের বেতন কাটার শাস্তিটা আর ভোগ করিতে হইল না । বাবা কলিকাতায় আসিয়া, কেন এক দিন কামাই হইয়াছিল, তাহার সবিশেষ বিবরণ কর্তৃপক্ষকে লিখিয়া পাঠাইলেন। তঁহারা তাহার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহের. চিহ্ন স্বরূপ আর বেতন কাটিলেন না । তৃতীয় ঘটনা যাহা উজ্জ্বল রূপে মনে আছে, তাহা এই ! বাবা তখন