পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


89, শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ পরিা ঘটনার কথা মনে পড়িয়াছে ৷ প্ৰায় ২৫ কি ৩০ বৎসর পূৰ্ব্বে আমাদের গ্রামের ছেলেরা একটি পাবলিক লাইব্রেরি করে। বাবা এক বার সহরে আসিতেছিলেন, তখন ছেলেরা তঁহার হাতে একটি বইয়ের তালিকা দিয়া বলে, “পণ্ডিত মশাই, কোনও জানা শোনা দোকান হ’তে এই বইগুলি এনে দিবেন, পরে দাম দেওয়া যাবে।” তিনি তার এক জন সমাধ্যায়ী বন্ধুর পুস্তকালয় হইতে দশ টাকার পুস্তক লইয়া ঐ গ্রামস্থ যুবকদিগকে দেন। তার পর মাসের পর মাস গেল, বৎসরের পর বৎসর গেল, তাহদের দাম দেওয়া আর হইয়া উঠিল না। বাবারও আর সে কথা মনে রহিল না। এত দিনের পর সে কথা মনে পড়িয়াছে । আবার আমি তার সেই সমাধ্যায়ী বন্ধুর পরিবারস্থ কেহ জীবিত আছেন কি না, অনুসন্ধান আরান্ত করিলাম। সৌভাগ্য ক্রমে কলিকাতার বটতলায় তাহার পুত্ৰকে জীবিত পাইলাম ; তখনও তিনি পুস্তক বিক্রয়ের ব্যবসা করিতেছেন। এ দশ টাকা বাবা নিজে দেশ হইতে আমার নিকট পাঠাইলেন। আমি বটতলাতে গিয়া সেই ঋণ শোধ করিয়া বাবার কাছে রসিদ পাঠাইলাম, তবে তিনি সুস্থির হইলেন। আবার আর একটি দেনার কথা স্মরণ হইল। বিশ পচিশ বৎসর পূৰ্ব্বে বাবা ভবানীপুরের এক কাপড়ের দোকান হইতে পাঁচ টাকার কাপড় ধারে লইয়াছিলেন। তার পরেই সে দোকান উঠিয়া যায়। সে ঋণ শোধের কি হইবে ? আমরা অনুসন্ধান করিয়া সে দোকানদারের কোনও উদ্দেশ পাইলাম না। কি করা যায় ? বাবার মন সুস্থির হয় না। অবশেষে পাচ টাকার কাপড় কিনিয়া তঁহার নিকট পাঠান গেল, তিনি গ্রামের দরিদ্রদিগকে দান করিলেন । আমার পিতার কিরূপ তেজস্বিতা ও মনুষ্যত্ব ছিল, তাহার দুইটি দৃষ্টান্ত স্মরণ আছে। এরূপ শুনিয়াছি যে, আমার মাতাঠাকুরাণীর বিবাহের দিনে, আমাদের গ্ৰাম হইতে সমাগত বর পক্ষীয় লোকদিগের সহিত