পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


80 শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত পরিা এই ‘শিশু’দের মধ্যে একটি এক দিন রাত্ৰি দ্বিপ্রহরের সময় কাতর ধ্বনি করিতেছে। বাবার নিদ্ৰা ভঙ্গ হইল, হঠাৎ সেই কাতর ধ্বনি শুনিয়া অস্থির হইলেন ; “ওরে কুসী, বেরাল ছানা কঁদে কেন রে ? বুঝি শীত করছে।” কুসুম। তুমি ঘুমোও, ঘুমোও। ওর মাকে পাচ্ছে না। ব’লে ডাক্‌ছে। এখনি ওর মা আসবে, তখন চুপ করবে। এ কথা বাবার মনঃপূত হইল না। তিনি উঠিলেন, এবং বিড়াল শাবকটিকে আপনার লেপের মধ্যে আনিয়া কোলে করিয়া শুইলেন। তবুও সে থামে না! বাবা বলিলেন, “আহা, শিশু কি না, বোধ হয় উদরের পীড়া হয়েছে।” কুসুম (রাগিয়া ) । হাঃ ! ওর উদরের পীড়া হয়েছে! যাও, তুমি উঠে গিয়ে কবিরাজ ডেকে আন । এই “উদরের পীড়া’র বিষয়ে একটু কথা আছে। আমার বাবা সামান্য কথোপকথনেও অনেক সময় শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করিতেন। ইহা লইয়া আমাদের বাড়ীতে সময়ে সময়ে বড় হাসাহাসি হইত। তাহার একটি দৃষ্টান্ত দিতেছি। এক দিন তিনি দ্বিপ্রহরের সময় আহারান্তে শয়ন করিয়াছেন। সবে নিদ্ৰা আসিতেছে, এমন সময় পাড়ার কতকগুলি বালক বালিকা আমার ভাগিনেয়ীর সঙ্গে খেলিবার জন্য আসিয়া উপস্থিত। তাহারা গোল করিতেছে। বাবা বিরক্ত হইয়া বলিলেন, “আঃ, নিদ্ৰাকর্ষণ হচ্ছে, এখন কে গোল করে ?” মা আসিয়া ছেলেগুলিকে তাড়াইয়া দিলেন ; বলিলেন, “যাঃ, যাঃ, অন্য জায়গায় খেলগে যা ! এখন ‘কর্ষণ’ হচ্ছে, দেখছিস না ?” এই লইয়া আমার ভগিনীদের মধ্যে মহা হাসি উঠিয়া"গেল। ইত্যর প্রাণীদের উপরে বাবার ভালবাসার আর একটি দৃষ্টান্ত এই। কতকগুলি শকুনি কালীনাথ কৰাবুর নারিকেল বাগানের