পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৪৭-৫৬] পেটুক ছেলে 8 হইলে ফাটাফাট করিতেন, “আমাকে যদি সব দিলে ত বাবা খেলে কি ?” এ সকল লিখিতে আমার চক্ষে জ্বল আসিতেছে। হায় । তখন আমি তঁার এতটা প্ৰেম বুঝি নাই। আমাদের বাড়ীতে প্ৰায়ই ২৩টা বিড়াল থাকে। সে সময় একটা কদাকার বিড়াল ছিল। সে কদাকার বলিয়া মা তাকে হনুমান বলিয়া ডাকিতেন ; আমরাও হনুমান বলিতাম। হনু বড় চাের ছিল। পো-র পাতের মাছ চুরি করিয়া খাইত ; তিনি দেখিতে পাইতেন না। এই জন্য মা প্ৰথম প্রথম পো-কে আহারে বসাইয়া বাম হস্তে একগাছি ছড়ি দিয়া আসিতেন ; বলিয়া আসিতেন, “মধ্যে মধ্যে বাড়িগাছটা আপসো, বেরাল আসে।” পো মধ্যে মধ্যে ছড়িগাছটা লইয়া উদ্দেশে মারিতেন। এক দিন দেখা গেল, হনুমান লম্বা হইয়া পো-র পাত হইতে চুরি করিয়া মাছ খাইতেছে, পো উদ্দেশে ছড়ি মারিতেছেন, সে ছড়ি হনুর পৃষ্ঠে চপ চপ করিয়া পড়িতেছে, হনুর গ্রাহাই নাই। তাহার পর হইতে মা আমাকে পো-র পাতের নিকট ছড়ি হস্তে বিড়াল তাড়াইবার জন্য বসাইয়া রাখিতেন। তাহার পর আর বিড়াল আসিতে পারিত না । কিন্তু এক দিন যে ব্যাপার ঘটিয়াছিল তাহা বলিতে হাসিও পাইতেছে, লজ্জাও হইতেছে। সেদিন আমি বসিয়া আছি, পো আহার করিতেছেন। শুক্ত, ডাল, মাছের ঝোল, একে একে সব খাইলেন ; আমি ঠিক বসিয়া আছি, কিছুই বিভ্ৰাট ঘটিল না। কিন্তু শেষে যখন দৈ কলা ও সন্দেশ দিয়া ভাত মাখিলেন, তখন এই পেটুকের পক্ষে স্থির থাকা কঠিন হইল। অলক্ষিতে ক্ষুদ্র হস্তে এক এক থাবা ভাত গালে তুলিতে লাগিলাম। আমার প্রপিতামহের নিয়ম ছিল যে আহারে বসিয়া কথা কহিতেন না ; এ নিয়ম তিনি ৮ বৎসর হইতে ১০৩ বৎসর বয়স পৰ্যন্ত পালন করিয়াছিলেন । আর একটি নিয়ম এই ছিল যে, আহারের সময় কেহ স্পর্শ