পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [২য় পরিঃ ইষ্টদেবতার চরণে প্ৰণাম ও প্রার্থনা হইত। এই প্ৰণাম করিয়া করিয়া তঁর কপালের উপরে একটা আবের মত" মাংসের গুলি জমিয়াছিল। মাথা ঠুকিয়া যখন প্রার্থনা করিতেন, তখন আমার মা কোনও কোনও দিন কান পাতিয়া শুনিতেন। এক দিন মা শুনিলেন যে, তিনি মুখে মুখে বাঙ্গল ভাষাতে র্তাহার ইষ্টদেবতার চরণে আমার বিদেশবাসী পিতার জন্য প্রার্থনা করিতেছেন। বলিতেছেন, “মা দয়াময়ি, সে বিদেশে প’ড়ে আছে, তাকে রক্ষা ক’রে। সে কাহারও বারণ শোনে না, তাকে সুমতি দেও,” ইত্যাদি। সৰ্বশেষে উঠিয়া দাড়াইয়া করতালি দিয়া নাচিতেন। নাচিবার সময় আমার ডাক হইত, “বাবা ? আমি তখন দিগম্বরমূৰ্ত্তি বালক ; মা আমাকে খেলার ভিতর হইতে ধরিয়া আনিতেন। এবং 'প্ৰপিতামহের হাতে হাত দিয়া নাচিতে বলিতেন। আমনি দুইজনে হাতে হাতে ধরিয়া নৃত্য আরম্ভ হইত। তিনি তিন শত পয়ষট্টি দিন নাচিবার সময় একই গান করিতেন, তাহার দুই পংক্তি মাত্র আমার মনে আছে “দুৰ্গা দুৰ্গা বল ভাই, দুৰ্গা বই আর গতি নাই।” মা প্রপিতামহদেবকে আমার ধৰ্ম্মশিক্ষার দিকে দৃষ্টি রাখিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন, তাই তিনি আমাকে লইয়া প্ৰাতে নাচিতেন এবং প্রতি দিন সন্ধ্যাকালে সায়ং সন্ধ্যার পর কাপড় মুড়ি দিয়া নিজ শয্যাতে বসিয়া আমাকে কোলে লইয়া মুখে মুখে ধৰ্ম্মোপদেশ দিতেন, দেবতাদের স্তব প্রভৃতি শিখাইতেন, প্রশ্নোত্তরচ্ছলে অবশ্যজ্ঞাতব্য বিষয় সকল শিখাইতেন। যথা—“প্রপিতামহের নাম কি ?” প্রশ্ন করিয়াই তদুত্তরে বলিতেন, “ব’ল, ‘শ্ৰীরামজয় ন্যায়ালঙ্কার’।” আমি বাল্যস্বরে বলিতাম, , “শ্ৰীরামজয় ন্যায়ালঙ্কার,” ইত্যাদি। তৎপরে দেব দেবীর যে সকল স্তব মুখস্থ আবৃত্তি করিতেন এবং আমাকে আবৃত্তি করাইতেন, তাহার সকলগুলি মনে নাই। একটি মনে আছে, তাহা এই--