পাতা:আত্মচরিত (৩য় সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


" শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত [ ৩য় مراوه প্ৰথম বিবাহ।-এই জেলিয়াপাড়ার বাসায় থাকিতে থাকিতে আমার প্রথম বার বিবাহ হয়। সাল তারিখ মনে নাই ; তখন ঠিক কত বয়ঃক্রম ছিল, তাহাও স্মরণ নাই ১২১৩ বৎসরের অধিক হইবে না। আমার মাতুলালয়ের সন্নিকটস্থ রাজপুর গ্রামের ৬ নবীনচন্দ্র চক্ৰবৰ্ত্তীর জ্যেষ্ঠা কন্যা প্ৰসন্নময়ীর সহিত আমার প্রথম বিবাহ হয়। প্রসন্নময়ীর বয়ঃক্রম তখন দশ বৎসরের অধিক হইবে না। আমাদের দাক্ষিণাত্য বৈদিকদিগের কুলপ্ৰথা অনুসারে প্রসন্নময়ীর বয়ঃক্রম যখন এক মাস ও আমার বয়ঃক্রম যখন দুই বৎসর, তখন তাহার সহিত আমার বিবাহ-সম্বন্ধ স্থির হইয়াছিল। এই বিবাহকালীন সকল বিষয় আমার স্মরণ নাই। এই মাত্ৰ স্মরণ আছে যে, আমি কানে মাকৃড়া, গলায় হার, হাতে বাজু ও বাঁলা পরিয়া বিবাহ করিতে গিয়াছিলাম। বাবা বাজনা ও আলো করিয়া আমাকে লইয়া গিয়াছিলেন। আমাকে লইয়া যেই আসরে বসাইল, অমনি গ্রামের সমবয়স্ক বালকেরা আসিয়া “ওরে তুই কি পড়িস ? কি পড়িস ?” বলিয়া পরীক্ষা আরম্ভ করিল। আমি অল্প ক্ষণ মধ্যে বরোচিত লজ্জা ভুলিয়া গিয়া তাহাদের সহিত বাগযুদ্ধে প্ৰবৃত্ত হইলাম ; এবং আমাকে তাহারা ঠিকান দূরে থাক, আমিই তাহাদিগকে ঠকাইয়া দিলাম। ইহা স্মরণ আছে, বয়ঃপ্ৰাপ্ত ব্যক্তির কেহ কেহ বলিতে লাগিলেন, “ছেলেটি বড় জেঠা” । তৎপরে বাড়ীর মধ্যে লইয়া গেলে সমবয়স্ক বালিকাদিগের কানমলা আরম্ভ হইল। সেই বার ঠকিয়া গেলাম ; কানমলার পরিবর্তে কান মলিয়া দিতে পারিলাম না । নারীদলে আমাকে ঘিরিয়া ফেলিল । এত মেয়ে একত্ৰ দেখিয়া ভ্যাব-চ্যাক লাগিয়া গেল । পালকী করিয়া বৌ লইয়া আসা।-বিবাহের পর দিন যখন এক পালকীতে বরকন্যাকে তুলিয়া দিয়া গৃহাভিমুখে বিদায় করিল, তখন আমার মুস্কিল বোধ হইতে লাগিল। মেয়েটি ঘোমটা দিয়া