পাতা:আত্মচরিত (৪র্থ সংস্করণ) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৮২-৮৮] কাশীতে পিতাঠাকুব মহাশয়ের গুরুতব পীড়া VOORR) ক্রুদ্ধ হইতেন না ; কিন্তু সে অর্থ তিনি স্পর্শ করিতেন না, তাহ মায়েরি থাকিত । এইরূপ চলিতেছিল, মধ্যে বাবা কৰ্ম্ম হইতে অবস্থিত হইয়া সংকল্প করিলেন, দেশভূমি পরিত্যাগ করিয়া কাশীবাসী হইবেন, যেন আর অধম পুত্রের মুখ দৰ্শন করিতে না হয়। বাবা মা কাশীতে বসিবার পূর্বে গয়া বুন্দাবন প্ৰভৃতি তীর্থ দশন করিতে বাহির হইলেন । তখন আমি তাহদের তীর্থভ্ৰমণের ব্যয়ের জন্য অর্থসাহায্য করিলাম, বাবা দয়া করিয়া তাহা গ্ৰহণ করিলেন , আমি আপনাকে কৃতাৰ্থ মনে করিলাম। ক্রমে তাহারা কাশীধামে আসিয়া বাস কবিলেন। সেখানে বাবার মান সন্ত্রম হইল । তাঙ্গাব পেনসনের টাকাতে ও আমার সামান্য সাহায্যে তাহারা সুখে বাস করিতে লাগিলেন। আমি আমার ভগিনী ঠাকুরদাসীকে পৈতৃক ভিটাতে স্থাপন করিয়া একপ্রকার নিশ্চিন্ত মনে বাস করিতে লাগিলাম । দিন এই প্ৰকার চলিতেছে, এমন সময় ১৮৮৮ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী রবিবার রাত্রে আমি ব্ৰাহ্মসমাজের বেদী হইতে নামিয়াছি, এমন সময় কাশী হইতে আমার একজন ডাক্তাব বন্ধুর নিকট হইতে তারে সম্বাদ পাইলাম যে পিতাঠাকুর মহাশয় গুৰুতর পীড়িত, আমাকে অবিলম্বে যাত্ৰা করিতে হইবে। আমি তৎক্ষণাৎ প্ৰস্তুত হইয়া আমার দ্বিতীয়া পত্নী বিরাজমোহিনীকে সঙ্গে লইয়া তৎপরবর্তী ট্রেনে কাশী যাত্ৰা করিলাম। পরদিন দুপুর বেলা কাশীতে পৌঁছিয়া পথে সেই ডাক্তার বন্ধুর বাড়ীতে গিয়া শুনি, বাবা ওলাউঠা রোগে আক্রান্ত, নাড়ী নাই। আমি ডাক্তার * সঙ্গে করিয়া বাবার বাসাতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। র্তাহার নাড়ী নাই, তাহার উপর হিকা হইয়াছে, সকলে মহা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থাতে আমি গিয়া যখন নিকটে দাড়াইলাম, তখন বাৰা আঠার বৎসরের পৱ প্রথম আমার মুখের দিকে চাহিলেন, কিন্তু আমাকে দেখিয়া মুখ